Saturday, July 9, 2016

এসেছে নতুন শিশু

সাধারণত জন্মের পর থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত শিশুকে নবজাতক বলে। প্রসবের পর পরই নবজাতকের যত্নের ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকা উচিত। এ সময়ের যত্ন-আত্তির ওপর নির্ভর করে শিশুর পরবর্তী জীবনের সুস্থতা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনীষা চক্রবর্তী     www.kalerkantho.com



কোলে নেওয়ার সময়
নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাই কেউ কোলে নিতে চাইলে হাত পরিষ্কার করে নিতে বলুন। ঘাড় শক্ত না হওয়া পর্যন্ত ঘাড়ের নিচে এক হাত রেখে কোলে নিন। ওপর-নিচ করার সময় মাথা ও ঘাড়ের নিচে হাত রাখুন। সতর্ক থাকুন তাঁর শরীরে যেন বেশি ঝাঁকুনি না লাগে। ঝাঁকুনি-চোট থেকে শিশুর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। শিশুকে জাগাতে চাইলে জোরে ঝাড়া দেবেন না। প্রয়োজনে পায়ের তলায় সুড়সুড়ি দিতে পারেন। হাত ধরে টেনে তুলবেন না। বরং পিঠের নিচে হাত দিয়ে তুলুন।
শালদুধ
জন্মের ঠিক পর থেকে শুরুর ২-৩ দিন পর্যন্ত মা তাঁর স্তন থেকে যে দুধ নিঃসরণ করে তাকে শালদুধ বলে। শালদুধে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, যেমন উচ্চমাত্রার আমিষ, স্নেহ ও শর্করা ছাড়াও রয়েছে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার বেশ কিছু জরুরি উপাদান। যার একটি 'ইমিউনোগ্লোবিউলিন এ'। এটা শিশুকে রক্তের ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়া শালদুধ শিশুর ক্ষুদ্রান্ত্রকে ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করে এবং শিশুকে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝামেলা থেকে বাঁচায়। তাই অবশ্যকর্তব্য, জন্মের পরপরই শিশুর শালদুধ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুকে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের দুধ দেওয়ার সুপারিশ করে। জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধই শিশুর জন্য যথেষ্ট। বুকের দুধপানকালে শিশু কিছু বাতাস গিলে ফেলে। এ বাতাস বের করে দেওয়ার জন্য দুধ পানের পর শিশুর মাথা আলতোভাবে কাঁধে রেখে পিঠে হাত বোলান। বুকের দুধ পানের পর ১০-১৫ মিনিট বসানো পজিশনে রাখা উচিত। সঙ্গে সঙ্গে শুইয়ে দিলে পান করা দুধ বেরিয়ে আসে বেশি।
ডায়াপার
* দৈনিক ১০ বার কাপড় বা ডায়াপার বদলাতে হতে পারে।
* ডায়াপার অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত হতে হবে।
* প্রতিবার পায়খানা-প্রস্রাবের পর অপরিষ্কার কাপড় বদলে ফেলুন। পায়খানা-প্রস্রাবের স্থান জীবাণুমুক্ত তুলা, ঈষদুষ্ণ পানিতে ডুবিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করে নিন। মেয়েশিশুর বেলায় সামনে থেকে পেছন দিকে নরম স্পর্শে পরিষ্কার করতে হবে। এতে মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
* র‌্যাশ দেখা দিলে অল্প ক্ষারযুক্ত সাবানজলে ডায়াপার ধুয়ে নিন।
গোসল
জন্মের ৪৮ ঘণ্টা পর অর্থাৎ তৃতীয় দিন গোসল করানো যাবে আর শিশুর চুল কাটানোর কানো প্রয়োজন নেই। প্রাথমিক পাতলা চুলটুকুর পরিবর্তে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এমনিতেই পরিণত চুল উঠবে। নবজাতকের নাভি শুকাতে এক থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। এ সময় পর্যন্ত সপ্তাহে দু-তিনবার স্পঞ্জ বাথ দিতে হবে। গোসলে অবশ্যই পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত ঈষদুষ্ণ পানি, অল্প ক্ষারের সাবান, শুকনো, জীবাণুমুক্ত পোশাক ও তোয়ালে ব্যবহার করুন। ইনফ্যান্ট বাথটাব ব্যবহার করা হলে দু-তিন ইঞ্চির মতো হালকা গরম পানিতে ভর্তি করুন। নিজের কবজি ডুবিয়ে আগেই গরম অনুভব করে নিন। শিশুর নাক, কান, কানের পাশ, দেহের ভাঁজ পরিচ্ছন্ন রাখার ভালো উপায় গোসল। গর্ভ থেকে লেপ্টে থাকা রক্ত, এইচআইভি, হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের মতো জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে গোসল করানো খুব প্রয়োজন। নবজাতকের গোসলের সময় পাঁচ মিনিটের বেশি হওয়া উচিত নয়। সাবান কিংবা ক্লিনারস প্রথম কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার না করাই উচিত। গোসল করিয়ে সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে শুষ্ক তোয়ালে দিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভালোভাবে মুছে দিন। অনেক মায়েরই ধারণা, প্রতিদিন গোসল করালে শিশুর ঠাণ্ডা লাগবে। এটা একদমই ঠিক নয়। বরং হালকা গরম পানিতে শিশুকে নিয়মিত গোসল করান। তবে অসুস্থ হলে ডাক্তারের পরামর্শে গোসল করান। গোসল করানো বারণ থাকলে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে দিন। শিশুকে তেল মাখাতে চাইলে খেয়াল রাখুন যেন তেলটা ঝাঁজালো না হয়। বরং বেবি অয়েল মাখাতে পারেন। শীতের দিনে তেল মেখে রোদে নিয়ে বসতে পারেন। তবে কড়া রোদ যেন না হয়।
বেবি পাউডার নয়
তপ্ত কিংবা ভাপসা আবহাওয়ায় পাউডার কাজে দিলেও নবজাতকের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার ঠিক নয়। এটি শিশুর ত্বকের গ্রন্থিগুলোর শ্বাস-প্রশ্বাসের ছিদ্র বন্ধ করে দেয় ও ঘামাচি তৈরি করে। পাউডার শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসে ফুসফুসে পৌঁছে মারাত্মক ক্ষতি করে।
নাভি, নাক ও চোখে
ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নাড়ি শুকিয়ে যায় এবং ৫-১০ দিনের মাথায় ঝরে পড়ে। নাভিতে কোনো কিছু লাগানোর প্রয়োজন নেই। নখ কেটে ছোট ও পরিষ্কার রাখা উচিত। গরম জলে কটন ভিজিয়ে খুব আলতোভাবে চোখ পরিষ্কার করুন। ত্বকের খসখসে ভাব দূর করতে নারিকেল তেল বেশি গ্রহণযোগ্য।
ঘুম পড়ানোর কলাকৌশল
নবজাতক ২৪ ঘণ্টার প্রায় ১৬ ঘণ্টা বা এরও বেশি সময় ঘুমিয়ে কাটায়। প্রতিবার প্রায় তিন-চার ঘণ্টা ঘুমায়। নরম বা তুলতুলে নয়, এমন বিছানার ওপর শিশুকে শোয়ান। ঘুমালে বাড়ির সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যেন উচ্চ শব্দের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটে। শিশুকে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়াবেন না, বরং বিছানায় শুইয়ে ঘুম পাড়ান। কারণ কোলে ঘুমানোর অভ্যাস হলে আর বিছানায় ঘুমাতে চাইবে না। শিশু ঘুমালে জোর করে তুলবেন না। সে যতক্ষণ ঘুমাতে চায় ঘুমাক। তেমনি আবার ঘুমাতে না চাইলে জোর করে ঘুম পাড়াবেন না। সাধারণত পেট ব্যথা কিংবা ঠাণ্ডা লাগা ধরনের অসুখ হলে শিশু ঘুমাতে চায় না। এ অবস্থায় শিশুকে লম্বা করে কোলে নিয়ে কাঁধে মাথা রেখে ঘুম পাড়ান।
শান্ত করা
শিশুকে যেনতেনভাবে শান্ত করা ঠিক নয়, মানে হাতের কাছে যা পাওয়া যায় তা তুলে দেওয়া ভালো নয়। এগুলোর অনেকগুলোই বিপজ্জনক হতে পারে। বরং তার বয়স অনুযায়ী রংবেরঙের খেলনা নিয়ে তার সঙ্গে মজা করুন। তা ছাড়া পিঠে হাত বুলিয়ে দিন। শিশুর কান্না থেমে যাবে।
শিশুর পোশাক
শিশুকে সুতি ও নরম জামাকাপড় পরাবেন। পোশাক ঢিলেঢালা হওয়া ভালো। শিশুর পোশাকে বোতাম বা হুক না লাগিয়ে ফিতা লাগান। শিশুর ব্যবহারের কাপড়চোপড় ধোয়ার সময় খেয়াল রাখবেন, যেন সাবান লেগে না থাকে। কারণ ক্ষারজাতীয় জিনিস শিশুর ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
আপগার স্কোর
জন্মের পরপরই নবজাতকের সার্বিক অবস্থা অনুধাবনের জন্য যে পর্যবেক্ষণ করা হয়, তার সংখ্যাবাচক প্রকাশই হলো আপগার স্কোর। শিশু জন্মের পরপরই শ্বাসকষ্ট নিয়ে জন্মালে জন্মের সঙ্গে সঙ্গে এবং পাঁচ মিনিট পর আপগার স্কোর করে দেখা হয়। অন্য সব স্বাভাবিক শিশুকেও আপগার স্কোর করে দেখা হয়। মোট আপগার স্কোর ১০-এর মধ্যে কেউ যদি ৮-১০ পায়, ধরে নেওয়া হয় সে খুবই সুস্থ আছে আর ৪-৭ পেলে মোটামুটি ভালো। কোনো বাচ্চার আপগার স্কোর ০-৩ থাকলে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক।
বার্থ অ্যাসফিক্সিয়া
নবজাতক জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই যদি নিজে নিজে নিঃশ্বাস নিতে ব্যর্থ হয়, তাকে বার্থ অ্যাসফিক্সিয়া বা অ্যাসফিক্সিয়া নিউনেটারাম বলে। সাধারণত এ ধরনের শিশুদের জন্মের পাঁচ মিনিট পর আপগার স্কোর ৬-এর নিচে থাকে। যদি তা ৩-এর নিচে নেমে যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে শিশুটির অবস্থা বেশ জটিল। শিশু জন্মের এক মিনিটের মধ্যে যদি শ্বাস না নেয়, তাহলে অতিদ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। এ সময় শিশুর তাপমাত্রা যেন কোনোভাবেই কমে না যায়, এ জন্য তাকে উষ্ণ কাপড়ে মুড়িয়ে রাখতে হবে। বার্থ অ্যাসফিক্সিয়া তীব্র হলে বা চিকিৎসা করতে সামান্য দেরি হয়ে গেলে শিশু মানসিক প্রতিবন্ধকতা, মৃগী, প্যারালাইসিসসহ নানা জটিলতায় ভুগতে পারে।
ওজনহীনতা
কম ওজনের নবজাতক সহজেই রোগাক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। তাই এসব শিশুর ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিতে হয়। সব সময় শিশুকে উষ্ণ রাখতে হবে, তাপমাত্রা কমতে দেওয়া যাবে না, পরিষ্কার হাতে শিশুকে ধরতে হবে এবং শিশুর পরিধানের কাপড়ও খুব পরিষ্কার রাখতে হবে। শ্বাস নিতে কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে মুখের ভেতরের লালা এবং নাকের সর্দি পরিষ্কার করে দিতে হবে। শিশুর ওজন বেশ কম হলে হাসপাতালে ভর্তি করে শিশু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। সঠিক পুষ্টির জন্য মায়ের দুধের পাশাপাশি নাকে নল দিয়ে খাবার দেওয়া, এমনকি শিরার মাধ্যমেও খাবার দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। শিশুর তাপমাত্রা কমে গেলে তাকে ইনকিউবেটরে দিতে হবে।
রক্তক্ষরণ
শিশুর জন্মের পর প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে হঠাৎ শরীরের যেকোনো স্থান দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। সাধারণত রক্তক্ষরণ ছাড়া শিশুর অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে না। এটিকে বলে হেমোরেজিক ডিজিজ অব নিউবর্ন বা নবজাতকের রক্তক্ষরণ। শরীরে ভিটামিন 'কে'-এর অভাবে এ রোগ দেখা দেয়।
নানা কারণে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, দ্বিতীয় দিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে বা বিলম্বিত রক্তক্ষরণ হতে পারে। এ সময় নাভি দিয়ে, পায়খানার সঙ্গে, নাক দিয়ে রক্তপাত হতে দেখা যায়। অনেক সময় চামড়ার নিচে রক্তপাতের কারণে লাল লাল দাগ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া বিপজ্জনক হলো মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ। আশার কথা হলো, নবজাতকের এই রক্তক্ষরণ প্রতিরোধে সহজ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি বিদ্যমান। সেটি হলো ভিটামিন 'কে' ইনজেকশন প্রয়োগ। জন্মের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ ইনজেকশন দিতে হয়। ইনজেকশন মাংসপেশিতে একবার প্রয়োগ করলেই যথেষ্ট। তবে মুখে খাওয়ালে তিন ডোজ নিতে হবে। প্রথম ডোজ নিতে হবে জন্মের চার ঘণ্টার মধ্যে। দ্বিতীয় ডোজ চতুর্থ দিনে এবং তৃতীয় ডোজ ২৮তম দিনে। ইনজেকশন নেওয়ার পরও রক্তক্ষরণের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নাভির ইনফেকশন
নবজাতকের নাভি দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত সাদা পুঁজের মতো কিছু এলে বুঝতে হবে বাচ্চার নাভিতে ইনফেকশন হয়েছে। এ অবস্থায় নাভির চারপাশ লালচে হয়ে যায়।
স্টেফাইলোকক্কাস নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এমনটি হয়ে থাকে। অনেক সময় নাভি থেকে এটি লিভারে গিয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে জন্ডিস, লিভারের ফোড়াসহ নানা রোগ হতে পারে। এ অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত। জন্মের পরপরই নাভির যত্ন নিলে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
টিকা
* জন্মের পর : বিসিজি টিকা
* ৬ সপ্তাহ : প্রথম ডোজ ডিটিপি, পোলিও, হিব এবং হেপাটাইটিস-বি টিকা
* ১০ সপ্তাহ : দ্বিতীয় ডোজ ডিটিপি, পোলিও, হিব এবং হেপাটাইটিস-বি টিকা
* ১৪ সপ্তাহ : তৃতীয় ডোজ ডিটিপি, পোলিও, হিব এবং হেপাটাইটিস-বি টিকা
* ১০ মাস : হাম, চতুর্থ ডোজ পোলিও টিকা এবং ভিটামিন-এ ক্যাপসুল।
সুত্র 
www.kalerkantho.com


ছোট্ট মেয়েটির সাজগোজ



মা ব্যস্ত আছেন। এই তো সুযোগ! চটপট আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখভর্তি একগাদা লিপস্টিক মেখে নিল ছয় বছরের নোরা। ঠোঁটের বাইরে ছড়িয়ে গেল রং।
সাদা জামাটা দিয়ে মুছে নিল তা।
এই রে, সেরেছে! মা তো চোখ বড় করে পেছনেই দাঁড়িয়ে।
প্রায় সব মায়ের আর ছোট্ট মেয়েদের জন্য এটা যেন হররোজের ঘটনা। অনেকে মজা পেলেও এটি কিছুটা চিন্তারও কারণ বটে। রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন বললেন, শিশুদের সাজলে কোমল বা শিশুসুলভ ভাবটা থাকে না। আর বড়দের প্রসাধনী ব্যবহার করা শিশুদের স্পর্শকাতর ত্বক ও চুলের জন্য ক্ষতিকর। ছোট বয়স থেকেই যদি শিশুরা প্রসাধনী ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তাহলে খুব দ্রুতই ত্বক ও চুল নষ্ট হতে থাকবে। তিনি পরামর্শ দিলেন শিশুদের কী কী একদমই ব্যবহার করা ঠিক না।
ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা যাবে না বা বেজ মেকআপ করা যাবে না।
ব্লাশঅন, আইশ্যাডো ও মাসকারা ব্যবহার করা যাবে না। ব্লাশঅন ও শ্যাডো ব্যবহারে ত্বক নষ্ট হয় আর মাসকারা ব্যবহারে চোখের পাপড়ি ভেঙে বা ঝরে পড়ে তাড়াতাড়ি।
গাঢ় রঙা লিপস্টিক ব্যবহার করা ঠিক না। এতে শিশুদের ঠোঁট দ্রুত কালো হয়ে যাবে।
চুলে হেয়ার স্প্রে একদমই ব্যবহার করা যাবে না। এর ব্যবহারে চুল ঝরতে থাকে।
কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, কোনো পার্টিতে যাওয়ার আগে মাকে সাজতে দেখে বাচ্চা মেয়েটা হয় গোঁ ধরে বসে থাকে, না-হয় কান্নাকাটি শুরু করে দেয় তাকেও সাজিয়ে দেওয়ার জন্য। তাকে সহজে বোঝানোই মুশকিল। কী আর করা! তানজিমা বললেন এক-আধ দিন পার্টির জন্য শিশুরাও সাজতে পারে। তবে সেটা হবে শিশুসুলভ সাজ। কীভাবে সাজবে তা-ও সহজ করে বলে দিলেন তিনি।
নেলপলিশে তেমন কোনো ক্ষতি হয় না বলে নখ রাঙাতে বাধা নেই শিশুদের।
ঠোঁটে চাইলে একদমই হালকা রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করা যাবে।
*চুলের জন্য পোশাকের সঙ্গে মানায় এমন হেয়ারস্টাইল বেছে নিতে হবে। সেই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, শিশুর চুলে যেন টান না লাগে। তাতে ব্যথা তো লাগবেই, চুলও ছিঁড়ে আসবে।
*চুলে বেণি বা ঝুঁটি তো করাই যায়, এ ছাড়া খোলা চুলে রাউন্ড ব্যান্ডও ব্যবহার করা যায়। যাদের লম্বা চুল, তাদের সামনের চুলগুলো পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে বা নানা রকম বেণির বুনন করে ছোট ছোট ক্লিপ দিয়ে বাঁধা যায়। পেছনের চুল চাইলে খোলা রাখা যায় কিংবা বেণি বা ঝুঁটিও করা যায়। যাদের ছোট চুল বাধা যায় না, তাদের জন্য বাজারে নানা ধরনের ক্লিপ পাওয়া যায়। শিশুর চুল সাজিয়ে রাখে এই ক্লিপগুলো। ছোট চুলে পরা যায় প্লাস্টিক, ধাতব কিংবা কাপড়ের তৈরি রাউন্ড ব্যান্ডও।


প্রথম আলো
নকশা প্রতিবেদক | আপডেট: 

শিশুদের নাগালের বাইরে...



আমাদের বাসাবাড়িতে মশা. তেলাপোকা কীটপতঙ্গের উপদ্রব তো থাকেই। সে কারণে আমরা বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক, স্প্রে, চকএসব ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আমাদের বাসায় যে ছোট্ট শিশু আছে, সে যদি কখনো হামাগুড়ি দিয়ে গিয়ে কিংবা মেঝেতে পড়ে থাকা এসব কীটনাশক মুখে দিয়ে ফেলে, তবেই তো ঘটবে বিপত্তি! এ কারণে যেসব সতর্কতা মেনে চলা উচিত, তা জানিয়েছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের গৃহ ব্যবস্থাপনা ও গৃহায়ণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রীনাত ফওজিয়া।

l বাজারে আমরা সাধারণত কীটপতঙ্গ মারার যেসব স্প্রে কিনে থাকি, সেসব স্প্রের কৌটার গায়ে লেখা থাকে
বাচ্চাদের হাতের নাগালের বাইরে রাখুন। নিয়মটা বড়দের অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

l বাচ্চারা ঘরে থাকা অবস্থায় কখনোই কীটনাশক স্প্রে করা উচিত নয়। তাদের ঘর থেকে বাইরে সরিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরের চার কোনায় ওপরের দিকে স্প্রে করতে হবে। স্প্রে করার ৫-১০ মিনিট পর দরজা-জানালা খুলে দিয়ে বাচ্চাদের ঘরে প্রবেশ করাতে হবে।

l মশা মারার বৈদ্যুতিক ব্যাট ব্যবহার করলেও দরজা-জানালা বন্ধ করে বাচ্চাদের সরিয়ে তারপর করতে হবে। তারপর দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে।
l মশা মারার ব্যাট দিয়ে অনেক সময় বাচ্চারা দুষ্টুমি করে। তা থেকে বিপদ ঘটতে পারে। তাই অবশ্যই ব্যাটটি এমন স্থানে রাখতে হবে, যেন বাচ্চারা এটা দিয়ে খেলা না করতে পারে।

l মেঝেতে আমরা অনেক সময় ইঁদুর কিংবা তেলাপোকা মারার জন্য কীটনাশক বা গুটি দিয়ে থাকি; বাচ্চারা হামাগুড়ি দিয়ে এসব জায়গায় গিয়ে ওষুধ হাতে নিয়ে মুখে দিয়ে ফেলতে পারে। তাই অত্যন্ত সতর্কভাবে রাতে এসব কীটনাশক মেঝেতে দিয়ে সকালে বাচ্চারা ঘুম থেকে ওঠার আগেই তাড়াতাড়ি সরিয়ে ফেলতে হবে এবং মেঝেটা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। কীটনাশক যদি শক্ত কাগজে করে দেওয়া হয়, তবে সেই কাগজও ফেলে দিন।
l অনেক সময় আমরা মেঝেতে চক ব্যবহার করে থাকি তেলাপোকা কিংবা ইঁদুর মারার জন্য। যে স্থানে চক দেওয়া হবে, ভোরে মেঝের সেসব স্থান ভালো করে ক্লিনার দিয়ে মুছে ফেলতে হবে।
l অনেক সময় তরল কীটনাশক বাজার থেকে কিনে এনে বিভিন্ন ধরনের বোতলে, ঢেলে রাখা হয়। বাচ্চারা সেসব না বুঝে মুখে দিতে পারে। তাই বোতলগুলো শিশুর হাতের নাগালের বাইরে রাখতে হবে এবং অবশ্যই বোতলের ওপর বিষ লেখা লেবেল দিতে হবে।
কীটপতঙ্গের সংক্রমণে

সাধারণত কীটপতঙ্গের সংক্রমণে বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের অসুখ হতে পারে। আবার এসব কীটপতঙ্গ মারার জন্য যেসব কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, তা থেকেও বাচ্চাদের বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ হতে পারে—এমনটা বলছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ) মাহবুব মোতানাব্বি। এ ক্ষেত্রে তাঁর পরামর্শ হলো:
l ঘরের কোনায় মৃত কীটপতঙ্গের যে অঙ্গগুলো পড়ে থাকে, সেগুলো থেকে বাচ্চাদের পেটের পীড়া হতে পারে। তাই এসব পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। খাবার সব সময় ঢেকে রাখতে হবে, যেন কীটপতঙ্গ খাবারের ওপর হাঁটতে না পারে।


l অনেক সময় পিঁপড়া দমনের জন্য যেসব গুঁড়া ব্যবহার করা হয়, তাতে ডিডিটি থাকে। বাচ্চারা না বুঝে যদি এসব গুঁড়া ওষুধ মুখে দিয়ে ফেলে, তাহলে ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে, ছোট বাচ্চাদের জন্য এটা অত্যন্ত মারাত্মক।
l মশা মারার জন্য পাউডার বা স্প্রে কোনোটাই ব্যবহার না করে নেট ব্যবহার করা ভালো। ঘরের যেসব জায়গা দিয়ে মশা ঢুকতে পারে, সেসব জায়গায় নেট ব্যবহার করা যেতে পারে।
l ঘরদোর সব সময় পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে, যেন পোকামাকড়ের জন্ম না হয়।
l বহুতল ভবনের সিঁড়ি বা বারান্দার কোনো জায়গায় অব্যবহূত জিনিস, উচ্ছিষ্ট ময়লা কিংবা পানি যেন জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
l মশা মারার জন্য ঘরে কয়েল ব্যবহার না করাই ভালো। যদিও করেন, তবে বাচ্চাদের জন্য আলাদা মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। তা না হলে যেসব বাচ্চার হাঁপানির সমস্যা আছে, তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে।
l যেকোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করলে তা ব্যবহারের পর পর পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।
বিশেষ করে মেঝে পরিষ্কারের সময় মাঝেমধ্যে পানিতে তরল জীবাণুনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।


নাঈমা আমিন
সুত্র প্রথম আলো 


Sunday, May 29, 2016

 নজরুল ইসলামের ছড়া লেখার মজার কাহিনী



তীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছোটবেলা যেমন বৈচিত্রপূর্ণ ছিল তেমনি তার লেখাতে তার প্রভাব আছে। তিনি ছোটদের খুব ভালোবাসতেন। তিনি বলতেন, ওরা আমার ছোট্ট বন্ধু।
ছোটদের জন্য অনেক মজার মজার ছড়া লিখেছেন নজরুল। তিনি পিলে পটকা, খাঁদু-দাদু, মট্কু মাইতি, লিচুচোর আর খুকি ও কাঠবিড়ালীর মতো শিশুতোষ অনেক মজার মজার ছড়া লিখেছেন। ভাবতে গিয়ে অবাক হতে হয় ছোটদের জন্য লেখা প্রায় প্রতিটি ছড়া-কবিতার পেছনেই নজরুলের কোনো না কোনো ক্ষুদে বন্ধুর কাহিনী জড়িয়ে আছে।
কাজী নজরুল ইসলামকে বলা হয় বিদ্রোহী কবি। শাসকরা তাকে ভয় পেতো। তবে ছোটরা ভয় পেতো না। কবি বলতেন, ওরা আমার বন্ধু।

নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত কবিতা খুকী ও কাঠবেড়ালী। এ কবিতা লেখা নিয়ে মজার একটি ঘটনা আছে। ১৯২১ সালে কুমিল্লায় বেড়াতে এসেছিলেন নজরুল। তিনি উঠেছিলেন ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের বাসায়। তার একটি ফুটফুটে মেয়ে ছিলো। ওর নাম ছিলো অঞ্জলি। একদিন নজরুল দেখতে পান, একটা পেয়ারা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে চোখ নাচিয়ে, হাত-পা নেড়ে অঞ্জলি কারো সঙ্গে কথা বলছে। 
নজরুলের মনে হয়, নিশ্চয়ই কেউ পেয়ারা গাছে উঠেছে। তার কাছে অঞ্জলি কাকুতি-মিনতি করে পেয়ারা চাইছে, কিন্তু সে পেয়ারা দিতে চাইছে না। 
নজরুল ভাবেন অঞ্জলির হয়ে তিনি পেয়ারা চাইবেন। ছেলেটা না দিলে নিজেই পেয়ারা পেড়ে দেবেন। 


অঞ্জলির সামনে গিয়ে নজরুল গাছের ওপর কাউকেই দেখতে পান না। তখন জিজ্ঞেস করেন, তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?
অঞ্জলি বলে, ওই দুষ্টু কাঠবেড়ালীটার সাথে। রোজ রোজ দুষ্টুটা পেয়ারা খেয়ে পালিয়ে যায়। আমাকে একটাও খেতে দেয় না।
কাঠবেড়ালীর সঙ্গে অঞ্জলির এই মান-অভিমান নজরুলকে এতোটাই চমত্কৃত করে যে, সেই ঘটনা নিয়ে তিনি লিখে ফেলেন খুকী ও কাঠবেড়ালী:

কাঠবেড়ালী! কাঠবেড়ালী!
পেয়ারা তুমি খাও?
গুড়-মুড়ি খাও! দুধ-ভাত খাও?
বাতাবি লেবু? লাউ?
বেড়াল বাচ্চা? কুকুর ছানা
তাও? 

নজরুলের আরেকটি কবিতা মটকু মাইতি বাঁটকুল রায়। এটা লেখার গল্প আরো মজার। 

নজরুল ইসলাম তখন কলকাতার চিত্পুরে হিন্দুস্তান গ্রামোফোন কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সেখানে যাবার সময় প্রতিদিন দুটি ছেলে তার দৃষ্টি কাড়তো। ওরা গলা ধরে হেঁটে হেঁটে স্কুলে যেতো। এদের একজন ছিলো বেঁটে আর মোটাঅন্যজন টিনটিনে শুকনো আর ছিপছিপে লম্বা। অনেকটা তালপাতার সেপাইয়ের মতো।

এ দুজনকে দেখে নজরুল এতোটাই মজা পান যে, একদিন হঠাত্ তিনি লিখেন :

মটকু মাইতি বাঁটকুল রায়
ক্রুদ্ধ হয়ে যুদ্ধে যায়
বেঁটে খাটো নিটপিটে পায়
ছেের চলে কেের চায়
মটকু মাইতি বাঁটকুল রায়।...


কাজী নজরুল ইসলামের আরেকটি শিশুতোষ কবিতার নাম লিচু চোর। এ কবিতাটি লেখার পেছনেও একটি ঘটনা আছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নজরুল ঊনপঞ্চাশ নম্বর বাঙালি পল্টনে হাবিলদার পদে চাকরি করতেন । বিশ্বযুদ্ধ শেষে নজরুল কলকাতায় চলে আসেন। সে সময় আলী আকবর নামে এক ভদ্রলোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি নজরুলকে ছোটদের জন্য লেখা একটি পাণ্ডুলিপি দেখিয়ে মতামত জানতে চান। পাণ্ডুলিপিটি পড়ে নজরুল বলেন, পাণ্ডুলিপির ছড়াগুলো ছোটদের উপযোগী হয়নি। যদি বলেন তো আমি একটা কবিতা লিখে দিই।
আলী আকবরের জন্য এ ছিলো আকাশের চাঁদ হাতে পাবার মতো প্রস্তাব। সঙ্গে সঙ্গে তিনি নজরুলকে একটি কবিতা লিখে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন । নজরুল ইসলামও দুখিলি পান মুখে পুরে লিখে ফেলেন সেই বিখ্যাত লিচু চোরকবিতা। সেই কবিতায় নজরুল লিখেন :

বাবুদের তালপুকুরে
হাবুদের ডালকুকুরে
সেকি ব্যস করলো তাড়া
বলি, থাম-একটু দাঁড়া।
ছড়া কবিতা লেখার পেছনে এমন অনেক ঘটনা জড়িয়ে আছে, যা থেকে বোঝা যায় ছোটদের কতো ভালোবাসতেন কাজী নজরুল ইসলাম।



Monday, November 30, 2015

একরোখা শিশু সামলাবেন কীভাবে?


http://paimages.prothom-alo.com/contents/cache/images/400x0x1/uploads/media/2015/03/17/8e69bd22f5e7589dbd1b5303aa21e8cd-27.jpg

নয় বছরের তমালকে (ছদ্মনাম) নিয়ে তো প্রায়ই বিপদে পড়তে হয় ওর বাবা-মায়ের। শপিং মলে গেলে কোনো কিছু কেনা তার চাই-ই চাই। আর সেটা না কিনে দিলে মাটিতে গড়াগড়ি। সবার সামনেই চিৎকার, কান্নাকাটি—সে এক হুলুস্থুল অবস্থা। আদর দিয়ে, ধমক দিয়ে, বুঝিয়ে—নানাভাবেই চেষ্টা করে দেখেছেন, কোনোভাবেই তমালকে বোঝানো যায় না। ফলে চাহিদামতো জিনিস তাকে কিনে না দিয়ে কোনো উপায়ও থাকে না।
অপর দিকে ছয় বছরের ছোট্ট মিথিলা (ছদ্মনাম) খুব মিষ্টি হলেও খাওয়া, পড়া সবকিছুতেই তার জেদ ধরা চাই। একবার না বললে কোনোভাবেই যেন সেটা হ্যাঁ হবে না। মনোবিজ্ঞানে কিছু শিশুকে বলা হয় ‘সহজে মানানো যায় না এমন শিশু’ বা ‘ডিফিকাল্ট চাইল্ড’। ১০ শতাংশ শিশু এমন হয়ে থাকে। এ ধরনের বাচ্চারা অল্পতেই উত্তেজিত হয়। একরোখা হয়। সহজে কথা শোনে না বা সন্তুষ্ট হয় না। মনোবিজ্ঞানী চেস ও থমাসের মতে, ৪০ শতাংশ শিশুকে বলা হয় ‘সহজে মানানো যায় এমন শিশু’। যাদের খাওয়া, ঘুম, বাথরুম ইত্যাদি সবকিছুই একধরনের নিয়মের মধ্যে থাকে। এরা যেকোনো কথা সহজে শোনে। এ দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ থাকে বাকি ৫০ শতাংশ শিশুর মধ্যে।
একরোখা ভাব বা যেকোনো কিছু নিয়ে জেদ করা অনেক শিশুরই বিশেষ এক বৈশিষ্ট্য। কোনো কিছু চাইলে সেটা দিতেই হবে, যেকোনো কিছুতেই তারস্বরে চেঁচানো, জিনিসপত্র নষ্ট করা ইত্যাদি তাদের যেন জেদেরই বহিঃপ্রকাশ।সন্তানের জেদ প্রশ্রয় দেবেন না। মডেল: রিহাল ও শিখা, ছবি: কবির হোসেন
শিশুদের জেদ কেন হয়—এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, জন্মগতভাবে পাওয়া বৈশিষ্ট্য এবং চারপাশের পরিবেশের প্রভাবেই বিকশিত হতে থাকে শিশুর মনের গঠন। অর্থাৎ, তার সঙ্গে আমাদের আচরণ কেমন হচ্ছে, তার কোনো ব্যবহার বা আচরণ আমাদের মাধ্যমে অজান্তে উৎসাহ পাচ্ছে কি না, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে তার মেলামেশা, চারপাশে সে কী দেখে বড় হচ্ছে ইত্যাদি নানা কিছুই প্রভাব ফেলে তার মনে। এরই প্রতিফলন দেখি শিশুর আচরণে।

মনোবিজ্ঞানের একটা নিয়ম হলো, সন্তানের যেসব আচরণে মা-বাবা মনোযোগ দেবেন, সেসব আচরণ সে বারবার করবে। এই মনোযোগ যেমন আমরা আদর বা প্রশংসা করা, দাবি পূরণ করার মাধ্যমে দিতে পারি, তেমনি ‘বকা দেওয়া’, ‘বোঝানো’র মাধ্যমেও হতে পারে। যেমন, কোনো বাচ্চা কোনো কিছু কেনার জন্য জেদ করলে তাকে সেটা কিনে দিলে তার জেদ করার প্রবণতা আরও বাড়বে।
আবার কেউ যদি কোলে ওঠার জন্য মাটিতে গড়াগড়ি দেয় আর কেউ তাকে কোলে তুলে নেয়, তাহলে তার গড়াগড়ি দেওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণটি মনোযোগ পাবে। পরে এ আচরণটি আরও বাড়বে। এমনকি শিশুদের দুষ্টুমি নিয়ে বা জেদ নিয়ে তাদের সামনে অন্যদের সঙ্গে গল্প করলেও শিশুর এসব আচরণে পরোক্ষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়।
তাহলে একরোখা শিশুদের সামলাতে কী করা উচিত? শিশু যখন জেদ করে সবার সামনে কান্নাকাটি করতে বা গড়াগড়ি দিতে থাকবে, তখন তার দাবি না মেটালে সামলাবেন কীভাবে? অথবা জেদ করে যখন না খেয়ে থাকবে, তখন তার ইচ্ছা পূরণ না করেই বা উপায় কী?
আচরণ যেমন মনোযোগ দিলে বাড়ে, আবার যেকোনো ব্যবহার, আচরণ যদি ক্রমাগত উপেক্ষা করা হয়, তাহলে সেসব আচরণ কিন্তু কমে যাবে।
সুতরাং শিশুর কোনো আচরণ পছন্দ না হলে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করুন। অর্থাৎ, বাচ্চা জেদ করলে তাকে বকা দেওয়া, বোঝানো, দাবি পূরণ করা, তাকে কটাক্ষ করা ইত্যাদি থেকে নিজেকে বিরত রাখুন এবং সম্পূর্ণ উপেক্ষা করুন। ধৈর্য ধরে দৃঢ়তার সঙ্গে ক্রমাগত যেকোনো জেদে এমন আচরণ করতে পারলে শিশু বুঝে যাবে যে জেদ করে কোনো কিছু আদায় করা যায় না। ছোটখাটো জেদকে প্রশ্রয় না দিয়ে এ অভ্যাসটি শুরু করুন ঘর থেকেই।
একটা জনপ্রিয় প্রশ্ন হলো, ক্ষেত্রবিশেষে শিশুরা যখন সীমা ছাড়িয়ে যায় (যেমন বেয়াদবি করা, জিনিসপত্র নষ্ট করা ইত্যাদি), তখন শাস্তি কতখানি গ্রহণযোগ্য? উত্তর হলো, ক্ষেত্রবিশেষে শাস্তি সাময়িকভাবে কার্যকর হলেও শিশু এ ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করে না। বরং বারবার শাস্তি দিলে শাস্তির গুরুত্ব কমে যায়। শিশুমনে একধরনের নেতিবাচক আবেগ তৈরি হয়।
সুতরাং শাস্তিযোগ্য কোনো কাজে শাস্তির পরিবর্তে সন্তানের কিছু সুবিধা (যেমন আদর করা, কথা বলা, প্রশংসা করা, উপহার দেওয়া) ইত্যাদি সাময়িকভাবে কমিয়ে ফেলুন।
কী করবেন?
* শিশুর যেকোনো ভালো কাজে প্রশংসা করুন।
* পড়ালেখার পাশাপাশি সাধারণ আচরণ, নিয়ম-কানুন শেখান।

* সামাজিক পরিবেশে কোন ধরনের আচরণ গ্রহণীয় এবং কোনগুলো গ্রহণযোগ্য নয়, সেটা স্পষ্ট করে জানান।
* সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে মিশতে দিন। তার জিনিসপত্র শেয়ার করতে শেখান।
* যেকোনো জেদ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করুন।

কী করবেন না?
* যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করুন।
* জেদে অতিরিক্ত বোঝানো, বকা দেওয়া বা তিরস্কার করবেন না।
* জেদ নিয়ে বাচ্চার সামনে অন্যদের সঙ্গে গল্প করবেন না।
* জেদ করে কোনো কিছু চাইলে সেই দাবি পূরণ করবেন না। স্বাভাবিকভাবে চাইলে তখন দেবেন।

 সুত্র প্রথম আলো
মেখলা সরকার | আপডেট:
মেখলা সরকার : মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা

Saturday, October 31, 2015

পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর উপায়


... নাজিয়া কাইয়ুম

আজকাল অনেকে পড়ার ফাঁকে একটু বিশ্রামের জন্য ফেসবুকে ঢোকেন বা গেম খেলেনযাতে সত্যিকার অর্থে বিশ্রাম হয় না। তার চেয়ে বরং কর্মক্ষমতা বাড়ায় সেরকম ছোট এক টুকরো ডার্ক চকলেট মুখে দিয়ে পছন্দের গান শুনতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারেন। এতে করে মাথাটা খালি তো হবেই এবং পড়াশোনায়ও মনোযোগ ফিরে আসবে।

না পড়লে পড়ে যেতে হয়। কিন্তু পড়ে যেতে কে চায় বলুনপ্রতিযোগীতার এই যুগে নিজেকে সেরাদের দলে টিকিয়ে রাখতে পড়াশুনার চাপ সইতে হয় অনেক। তবে নানা কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা বেশ কঠিন। এই কঠিন কাজকে সহজ করা সম্ভব মস্তিষ্ককে সজাগ রাখতে পারলে। তাই শিখে নিতে পারেন কিছু সহজ উপায়-
মনোযোগ বাড়াতেপড়তে যখন একদমই ইচ্ছা করে নাতখন কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে পড়লে তা মনে রাখা সহজ হয়। টোসের একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ৩০০ ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে করা এক সমীক্ষার ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে। পরীক্ষায় দেখা যায়যারা বসে পড়াশোনা করেছিলো তাদের তুলনায় দাঁড়িয়ে পড়ুয়াদের মনোযোগ ছিল অনেক বেশি। তাছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে পড়াশোনা নিয়ে আলোচনা করলেও বেশি মনে থাকে।
দায়িত্ববোধছোটবেলা থেকেই যারা অস্থির প্রকৃতিরপড়াশোনা বা অন্য কিছুতেও তেমন আগ্রহ নেই বা মন বসাতে পারেনা তাদের জন্য নিতে হবে বিশেষ ব্যবস্থা। এমন ছেলেমেয়েকে কোনো পোষা প্রাণি কিনে দেয়া যেতে পারে। ছোট ভাই-বোনের কিছুটা দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। এতে তারা কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে উঠতে পারেআত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে। কারণ আত্মবিশ্বাসই পড়াশোনায় মনোযোগ এনে দেবে।
পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের দিতে হবে যথেষ্ট ভিটামিনমিনারেল এবং পানীয় অর্থাৎ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। প্রধান খাবারের ফাঁকে দেশি ফলদুধডিমমিনারেলআয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। মনোযোগ ঠিক রাখতে জার্মানির অনেক স্কুলের টিফিনে আপেল খেতে দেয়া হয়। তাই বাচ্চাদের প্রতিদিন দুয়েকটা করে আপেল খেতে দেয়া যেতে পারে।
মস্তিষ্কের খাবার নানা রকমের বাদামআখরোটসামুদ্রিক মাছশাক-সবজিফলগ্রিন-টিসহ বিভিন্ন চা। এসব খাবার শরীর এবং মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। পড়াশোনার মাঝে পাকা টমেটো বা টমেটোর জুসও খাওয়া যেতে পারে। মাত্র ১০০ গ্রাম টমেটোতে পাবেন ২৫ গ্রাম ভিটামিন ‘সি’ এবং পটাশিয়াম। এসব উপাদান মস্তিষ্কের সঠিক গঠন নিশ্চিত করে।
ফাস্টফুডফাস্টফুডে থাকা নানা রকম রাসায়নিক উপাদান অনেকের জন্যই অ্যালার্জির কারণ হয়ে থাকে। এসব উপাদান মনোযোগ এবং শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই আজকের তরুণদের কাছে এসব খাবার প্রিয় হলেও শরীর ও মস্তিষ্কের কথা ভেবে কিছুটা সাবধান হওয়া উচিৎ।
ব্রেনের বিশ্রামআজকাল অনেকে পড়ার ফাঁকে একটু বিশ্রামের জন্য ফেসবুকে ঢোকেন বা গেম খেলেনযাতে সত্যিকার অর্থে বিশ্রাম হয় না। তার চেয়ে বরং কর্মক্ষমতা বাড়ায় সেরকম ছোট এক টুকরো ডার্ক চকলেট মুখে দিয়ে পছন্দের গান শুনতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারেন। এতে করে মাথাটা খালি তো হবেই এবং পড়াশোনায়ও মনোযোগ ফিরে আসবে।
ব্যায়ামগবেষকরা মনে করেনশারীরিক পরিশ্রম অর্থাৎ খেলাধুলা বা ব্যায়াম মানসিক চাপ থেকে সহজে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। ব্যায়াম বা খেলাধুলা করার ফলে শরীরে হরমোনের প্রকাশ ঘটে কিছুটা অন্যভাবে। আর স্বাভাবিকভাবেই তার সু-প্রভাব পড়ে মনোযোগে। পড়াশুনা করাও সহজ হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষেও ভালো ফলাফল করা সম্ভব হবে।
 

sutro ২৮ অক্টোবর বুধবার ২০১৫ খ্রিঃ