Sunday, July 17, 2016
অতিরিক্ত ভিডিও গেমে আসক্ত শিশুরা পরীক্ষায় ফেল করে
আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে তাল মিলিয়ে চলতে সেই ছোট্ট শিশুটির হাতেও আমরা তুলে দেই মোবাইল কিংবা কম্পিউটার। ছোট থেকেই তাকে নানা ধরনের ভিডিও গেম খেলায় অভ্যস্ত করে তুলি। এতে করে আপনার অজান্তেই সন্তানের অনেক ক্ষতি হয়। ছোটবেলা থেকেই ভিডিও গেম খেলার কারণে শিশুরা অনেক দক্ষ হয়ে উঠে। এর ফলে পরবর্ীতে তারা ভিডিও গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে। এতে তাদের পড়াশুনায় অনেক ক্ষতি হয়। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন দাবিই করেছেন গবেষকরা। তারা বলেছেন, খেলা খারাপ কিছু নয়, কিন্তু এটি মাত্রাতিরিক্ত হলে তা খারাপই বটে।
গবেষকরা বলেছেন, যেসব শিশুরা অতিরিক্ত ভিডিও গেম খেলে তারা প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় ফেল করেন। অন্যদিকে যেসব শিশুদের কারিগরি জ্ঞান কম থাকে তারা পরীক্ষায় অনেক ভালো করেন।
গবেষণায় পাঁচ হাজারেরও বেশি শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ সময় গবেষকরা শিশুরা খেলায় মোট কতটুকু সময় ব্যয় করেন এবং কিছু সময়ের জন্য তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মদক্ষতা পরীক্ষা করে দেখেন। এতে তারা এ দু’য়ের মধ্যে এক ধরনের যোগসূত্র খুঁজে পান।
গবেষকরা দেখতে পান, যেসব শিশুরা কম্পিটারেই তাদের সময় বেশি ব্যয় করেন তারা পড়াশুনায় ততটা ভালো করতে পারেন না। কখনও কখনও তারা ফেলও করেন।
গবেষকরা বলেন, সাধারণত যেসব শিশুরা পিতামাতার কম শাসনে থাকেন তারা ভিডিও গেম বেশি পছন্দ করেন। এরাই পরবর্ীতে পড়াশুনার চেয়ে ভিডিও গেমে বেশি আসক্ত হয়ে পড়েন।
অন্যদিকে যেসব শিশুরা কম্পিউটার ব্যবহার করেন না কিংবা যাদের একেবারে কোন কম্পিউটার নেই তারা পড়াশুনায় অনেক ভালো করেন। আবার যেসব শিশুরা নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার ব্যবহার করেন তারাও পরীক্ষায় ভালো করেন।
কাজেই গবেষকরা প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনায় ক্ষতি এড়াতে শিশুদের নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। একইভাবে যেসব শিশুরা তাদের পড়াশুনার চেয়ে কম্পিউটারের প্রতি বেশি আগ্রহ পোষণ করে তাদের প্রতিও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।
ফেসবুকে বাচ্চাদের ছবি পোস্ট করে যে ক্ষতি হতে পারে
কিছু হলেই ফেসবুকে পোস্ট। বিশেষ করে ছবি পোস্টের হিড়িক তো লেগেই থাকে। আর সংসারে বাচ্চা থাকলে তো কথাই নেই। তীব্র প্রতিযোগিতা ছবি পোস্টের। কিন্তু, এর ফলে সমাজের গভীরে বাসা বাঁধছে এক কঠিন অসুখ। সারাক্ষণই ফেসবুক পেজে গিয়ে নিজের পোস্ট দেখা। বাচ্চার ছবির পোস্টিং-এ ক’টা লাইক এল। কে ভাল কমেন্ট করল। যতই লাইকের সংখ্যা আর ভাল কমেন্টের সংখ্যা বাড়ছে ততই মুখ উজ্জ্বল হচ্ছে মায়ের। কিন্তু, আশা মতো লাইক আর কমেন্ট না এলেই মুশকিল। মা-এর মনে হাজারো খচখচানি। আর এই খচখচানি থেকে বাসা বাঁধছে এক কঠিন অসুখ। যার নাম ‘মানসিক হতাশা’।
বাচ্চাদের ছবি পোস্ট নিয়ে মায়েদের এই আদিখেত্যায় সম্প্রতি আমেরিকার ওহিয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণাপত্র সামনে এসেছে। আর সেই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে বাচ্চাদের ছবি পোস্ট করা নিয়ে মায়েদের মনে ‘হতাশা’ বাড়ছে।
মায়েদেরকে দু’দলে ভাগ করে এই গবেষণা চলে। এমন একদল মা-কে বাছাই করা হয় যাঁরা অধিকাংশ সময় বাচ্চাদের ছবি ফেসবুকে ছবি পোস্ট করছে। পাশাপাশি আর এক দল মা-কে রাখা হয় যাঁরা সেভাবে ফেসবুকে বাচ্চাদের ছবি পোস্ট করেন না। দেখা যায়, যাঁরা বাচ্চাদের ছবি বেশি করে ফেসবুকে পোস্ট করছেন তাঁরা আশাতিত লাইক বা কমেন্ট না পেলেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। দিনের পর দিন এই উদ্বেগের পরিমাণ এতটাই বেড়ে যাচ্ছে যে তাঁদের মস্তিষ্কে প্রভাব পড়ছে। এর ফলে বাড়ছে হতাশা। অপরদিকে, যেসব মায়েরা স্বাভাবিকভাবে ফেসবুকে বাচ্চার ছবি পোস্ট করেছিলেন তাঁদের মনে কিন্তু সেভাবে হতাশা গ্রাস করেনি।
সুতরাং, ছবি পোস্টে লাইক আর কমেন্টের চাহিদায় নিজেদের লোভ সংবরণ করতে পারলেই ভাল। এমনটাই বলছেন ওহিয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। সূত্র: এবেলা।
sutro http://www.dainikamadershomoy.com/
Tuesday, July 12, 2016
আপনার সন্তানকে বুঝতে শিখুন
মা-বাবারা সব সময় সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। কিন্তু কেবল মঙ্গল কামনাই যথেষ্ট নয়। সন্তানের ভালো চাইলে সবার আগে তার মনটিকে পড়তে হবে। আপনি আপনার মতো করে সন্তানের ভালো চাইলে ফলাফল সব সময় ইতিবাচক হবে না, শিশুকে বুঝে তার ভালো চাইতে হবে। এটি অনেকটা সেই বানর আর মাছের গল্পের মতো। একটি দ্বীপে বাস করত একটি বানর। পাশের পানির একটি রঙিন মাছের সঙ্গে তার খুব বন্ধুত্ব। বানর মাছের মঙ্গল চায়, মাছও বানরকে ভালোবাসে। একদিন শুরু হলো প্রচণ্ড ঝড় আর বৃষ্টি। ঝড়ের হাত থেকে বাঁচতে বানর একটি উঁচু গাছের কোটরে আশ্রয় নিল। আর বৃষ্টির পানি পেয়ে মাছটা খুশিতে লাফাতে লাগল। গাছ থেকে মাছের এই লাফালাফি দেখে বানর ভাবল, মাছটা বোধ হয় পানি থেকে উঠে বাঁচতে চাইছে। বানরটি ঝড়ের ভেতর নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাছ থেকে নেমে এসে পানি থেকে মাছটিকে কোলে নিয়ে গাছের কোটরে শুকনো পাতা দিয়ে ঢেকে রাখল। মাছটা কতক্ষণ লেজ ঝাপটাল। বানর তখন ভাবল, মাছটা তাকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। এভাবে লেজ ঝাপটাতে ঝাপটাতে মাছটা একসময় নিথর হয়ে গেল!
এই গল্পে মাছের প্রতি বানরের মঙ্গল কামনা আর ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না, কিন্তু সে মাছের বৈশিষ্ট্য আর মন বুঝতে না পারার কারণে শেষ পর্যন্ত ভালো না হয়ে খারাপই হলো। ঠিক তেমনিভাবে প্রতিটি শিশুর বৈশিষ্ট্য আর মনকে বুঝতে না পারলে তার জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব নয়। শিশু কী চায় আর কী চায় না, সেটি বুঝতে হবে। এটি চর্চার বিষয়—একদিনে সন্তানের সবকিছু বুঝে ফেলা সম্ভব নয়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানী না হয়েও বাবা-মায়েরা ইচ্ছা করলেই বেশির ভাগ সময় সন্তানকে বুঝতে পারবেন, যদি তাঁরা সন্তানকে গুণগত সময় দেন আর তার আচরণকে লক্ষ করেন। এ জন্য যা যা করা যেতে পারে—
এই গল্পে মাছের প্রতি বানরের মঙ্গল কামনা আর ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না, কিন্তু সে মাছের বৈশিষ্ট্য আর মন বুঝতে না পারার কারণে শেষ পর্যন্ত ভালো না হয়ে খারাপই হলো। ঠিক তেমনিভাবে প্রতিটি শিশুর বৈশিষ্ট্য আর মনকে বুঝতে না পারলে তার জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব নয়। শিশু কী চায় আর কী চায় না, সেটি বুঝতে হবে। এটি চর্চার বিষয়—একদিনে সন্তানের সবকিছু বুঝে ফেলা সম্ভব নয়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানী না হয়েও বাবা-মায়েরা ইচ্ছা করলেই বেশির ভাগ সময় সন্তানকে বুঝতে পারবেন, যদি তাঁরা সন্তানকে গুণগত সময় দেন আর তার আচরণকে লক্ষ করেন। এ জন্য যা যা করা যেতে পারে—
* শিশু যখন খেলে, খায় এমনকি ঘুমায়, তখন তাকে লক্ষ করুন। কোন বিষয় বা বস্তু তাকে এই কাজগুলো করার সময় মনোযোগ বাড়াচ্ছে বা কমাচ্ছে, সেদিকে নজর দিন।
* আপনার শিশুর সঙ্গে দরকারে-অদরকারে কথা বলুন। তার কথা বলার ভঙ্গি, গলার স্বরের ওঠানামা, চোখের ভাষা অনুভব করুন। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে মুখের ভাষার চেয়ে তাদের শারীরিক ভাষার (ননভারবাল ল্যাঙ্গুয়েজ) দিকে বেশি গুরুত্ব দিন।
* গবেষণায় দেখা গেছে, তিন থেকে চার বছরের বয়সের দিকে শিশুরা তাদের চোখের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করতে সক্ষম হয়। তাদের চোখের দৃষ্টি, অক্ষিগোলকের নড়াচড়া ইত্যাদির মাধ্যমে তারা তাদের চাওয়া-পাওয়া বোঝাতে পারে। বাবা-মায়েরা যদি নিবিড়ভাবে এ সময় শিশুর প্রতি নজর দেন, তবে তাদের মনের ভাব বুঝতে পারবেন।
* শিশুর কথা মন দিয়ে শুনুন। কথা শোনার সময় তার চোখের দিকে তাকান। কোনো শব্দ বা বাক্য বলার সময় তার মুখভঙ্গির পরিবর্তন হচ্ছে, সেদিকে লক্ষ করুন, সেই শব্দ বা বাক্যটির গুরুত্ব বুঝতে শিখুন।
* শিশুকে একান্ত সময় দিন। সে আলাদা করে আপনাকে কিছু বলতে চায় কি না, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন।
* যত দূর সম্ভব তার বয়সে ফিরে গিয়ে তার কল্পনার জগৎকে অনুভব করতে চেষ্টা করুন। তার আঁকা ছবি, খাতার আঁকিবুঁকি, তার বানানো খেলনা, তার বলা ছড়া—সবকিছুকে ভালোভাবে লক্ষ করুন। দেখা যাবে তার আঁকা একটি ছবি থেকেই আপনি তার মনের অনেকখানি বুঝে ফেলেছেন।
* কোনো কোনো সময় শিশুকে অনুসরণ বা অনুকরণ করার চেষ্টা করুন, এর মাধ্যমে তার মনের ভেতরে প্রবেশ করাটা সহজ হতে পারে।
* শিশুর কোনো প্রশ্ন এড়িয়ে যাবেন না, তা যতই বিব্রতকর হোক না কেন। তার বয়সের উপযোগী করে বিজ্ঞানসম্মতভাবে সেটির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন। তার প্রশ্নের ভেতরও লুকিয়ে থাকতে পারে তার চাওয়া না চাওয়া।
* শিশুর সঙ্গে হুটোপুটি করে খেলুন, হাসুন, দৌড়ান। তার আবেগকে প্রকাশ করার সুযোগ দিন।
* আশপাশের কিছুর কারণে শিশুর মধ্যে আচরণের পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। কাদের সামনে গেলে শিশু ভয়ার্ত হয় আর কাদের সামনে গেলে তার মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, সেটি নির্ধারণ করুন।
* একটি জিনিস মনে রাখবেন, আপনি যেমন আপনার শিশুর মন বুঝতে চাইছেন, শিশুও তেমনি আপনার মন বুঝতে চাইছে এবং আশ্চর্য হলেও সত্যি যে সে আপনার চেয়ে এ বিষয়ে অনেক বেশি দক্ষ! তাই নিজের কথা, আচরণ, চোখের ইশারাকে শিশুবান্ধব রাখুন। বাবা-মা, শিশুর প্রতি কোনো কারণে রূঢ়, বিরক্ত, সন্দিহান হলে সে কিন্তু ঠিকই বুঝতে পারবে, যতই তারা তা ঢেকে রাখার চেষ্টা করুক না কেন।
সুত্র প্রথম আলো আগস্ট ২৬, ২০১৫
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
ই–মেইল: soton73@gmail.com
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
ই–মেইল: soton73@gmail.com
Saturday, July 9, 2016
এসেছে নতুন শিশু
সাধারণত জন্মের পর থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত শিশুকে নবজাতক বলে। প্রসবের পর পরই নবজাতকের যত্নের ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকা উচিত। এ সময়ের যত্ন-আত্তির ওপর নির্ভর করে শিশুর পরবর্তী জীবনের সুস্থতা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনীষা চক্রবর্তী www.kalerkantho.com
সুত্র
www.kalerkantho.com
কোলে নেওয়ার সময়
নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাই কেউ কোলে নিতে চাইলে হাত পরিষ্কার করে নিতে বলুন। ঘাড় শক্ত না হওয়া পর্যন্ত ঘাড়ের নিচে এক হাত রেখে কোলে নিন। ওপর-নিচ করার সময় মাথা ও ঘাড়ের নিচে হাত রাখুন। সতর্ক থাকুন তাঁর শরীরে যেন বেশি ঝাঁকুনি না লাগে। ঝাঁকুনি-চোট থেকে শিশুর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। শিশুকে জাগাতে চাইলে জোরে ঝাড়া দেবেন না। প্রয়োজনে পায়ের তলায় সুড়সুড়ি দিতে পারেন। হাত ধরে টেনে তুলবেন না। বরং পিঠের নিচে হাত দিয়ে তুলুন।
শালদুধ
জন্মের ঠিক পর থেকে শুরুর ২-৩ দিন পর্যন্ত মা তাঁর স্তন থেকে যে দুধ নিঃসরণ করে তাকে শালদুধ বলে। শালদুধে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, যেমন উচ্চমাত্রার আমিষ, স্নেহ ও শর্করা ছাড়াও রয়েছে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার বেশ কিছু জরুরি উপাদান। যার একটি 'ইমিউনোগ্লোবিউলিন এ'। এটা শিশুকে রক্তের ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়া শালদুধ শিশুর ক্ষুদ্রান্ত্রকে ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করে এবং শিশুকে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝামেলা থেকে বাঁচায়। তাই অবশ্যকর্তব্য, জন্মের পরপরই শিশুর শালদুধ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুকে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের দুধ দেওয়ার সুপারিশ করে। জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধই শিশুর জন্য যথেষ্ট। বুকের দুধপানকালে শিশু কিছু বাতাস গিলে ফেলে। এ বাতাস বের করে দেওয়ার জন্য দুধ পানের পর শিশুর মাথা আলতোভাবে কাঁধে রেখে পিঠে হাত বোলান। বুকের দুধ পানের পর ১০-১৫ মিনিট বসানো পজিশনে রাখা উচিত। সঙ্গে সঙ্গে শুইয়ে দিলে পান করা দুধ বেরিয়ে আসে বেশি।
ডায়াপার
* দৈনিক ১০ বার কাপড় বা ডায়াপার বদলাতে হতে পারে।
* ডায়াপার অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত হতে হবে।
* প্রতিবার পায়খানা-প্রস্রাবের পর অপরিষ্কার কাপড় বদলে ফেলুন। পায়খানা-প্রস্রাবের স্থান জীবাণুমুক্ত তুলা, ঈষদুষ্ণ পানিতে ডুবিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করে নিন। মেয়েশিশুর বেলায় সামনে থেকে পেছন দিকে নরম স্পর্শে পরিষ্কার করতে হবে। এতে মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
* র্যাশ দেখা দিলে অল্প ক্ষারযুক্ত সাবানজলে ডায়াপার ধুয়ে নিন।
গোসল
জন্মের ৪৮ ঘণ্টা পর অর্থাৎ তৃতীয় দিন গোসল করানো যাবে আর শিশুর চুল কাটানোর কানো প্রয়োজন নেই। প্রাথমিক পাতলা চুলটুকুর পরিবর্তে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এমনিতেই পরিণত চুল উঠবে। নবজাতকের নাভি শুকাতে এক থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। এ সময় পর্যন্ত সপ্তাহে দু-তিনবার স্পঞ্জ বাথ দিতে হবে। গোসলে অবশ্যই পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত ঈষদুষ্ণ পানি, অল্প ক্ষারের সাবান, শুকনো, জীবাণুমুক্ত পোশাক ও তোয়ালে ব্যবহার করুন। ইনফ্যান্ট বাথটাব ব্যবহার করা হলে দু-তিন ইঞ্চির মতো হালকা গরম পানিতে ভর্তি করুন। নিজের কবজি ডুবিয়ে আগেই গরম অনুভব করে নিন। শিশুর নাক, কান, কানের পাশ, দেহের ভাঁজ পরিচ্ছন্ন রাখার ভালো উপায় গোসল। গর্ভ থেকে লেপ্টে থাকা রক্ত, এইচআইভি, হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের মতো জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে গোসল করানো খুব প্রয়োজন। নবজাতকের গোসলের সময় পাঁচ মিনিটের বেশি হওয়া উচিত নয়। সাবান কিংবা ক্লিনারস প্রথম কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার না করাই উচিত। গোসল করিয়ে সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে শুষ্ক তোয়ালে দিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভালোভাবে মুছে দিন। অনেক মায়েরই ধারণা, প্রতিদিন গোসল করালে শিশুর ঠাণ্ডা লাগবে। এটা একদমই ঠিক নয়। বরং হালকা গরম পানিতে শিশুকে নিয়মিত গোসল করান। তবে অসুস্থ হলে ডাক্তারের পরামর্শে গোসল করান। গোসল করানো বারণ থাকলে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে দিন। শিশুকে তেল মাখাতে চাইলে খেয়াল রাখুন যেন তেলটা ঝাঁজালো না হয়। বরং বেবি অয়েল মাখাতে পারেন। শীতের দিনে তেল মেখে রোদে নিয়ে বসতে পারেন। তবে কড়া রোদ যেন না হয়।
বেবি পাউডার নয়
তপ্ত কিংবা ভাপসা আবহাওয়ায় পাউডার কাজে দিলেও নবজাতকের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার ঠিক নয়। এটি শিশুর ত্বকের গ্রন্থিগুলোর শ্বাস-প্রশ্বাসের ছিদ্র বন্ধ করে দেয় ও ঘামাচি তৈরি করে। পাউডার শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসে ফুসফুসে পৌঁছে মারাত্মক ক্ষতি করে।
নাভি, নাক ও চোখে
ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর নাড়ি শুকিয়ে যায় এবং ৫-১০ দিনের মাথায় ঝরে পড়ে। নাভিতে কোনো কিছু লাগানোর প্রয়োজন নেই। নখ কেটে ছোট ও পরিষ্কার রাখা উচিত। গরম জলে কটন ভিজিয়ে খুব আলতোভাবে চোখ পরিষ্কার করুন। ত্বকের খসখসে ভাব দূর করতে নারিকেল তেল বেশি গ্রহণযোগ্য।
ঘুম পড়ানোর কলাকৌশল
নবজাতক ২৪ ঘণ্টার প্রায় ১৬ ঘণ্টা বা এরও বেশি সময় ঘুমিয়ে কাটায়। প্রতিবার প্রায় তিন-চার ঘণ্টা ঘুমায়। নরম বা তুলতুলে নয়, এমন বিছানার ওপর শিশুকে শোয়ান। ঘুমালে বাড়ির সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যেন উচ্চ শব্দের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটে। শিশুকে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়াবেন না, বরং বিছানায় শুইয়ে ঘুম পাড়ান। কারণ কোলে ঘুমানোর অভ্যাস হলে আর বিছানায় ঘুমাতে চাইবে না। শিশু ঘুমালে জোর করে তুলবেন না। সে যতক্ষণ ঘুমাতে চায় ঘুমাক। তেমনি আবার ঘুমাতে না চাইলে জোর করে ঘুম পাড়াবেন না। সাধারণত পেট ব্যথা কিংবা ঠাণ্ডা লাগা ধরনের অসুখ হলে শিশু ঘুমাতে চায় না। এ অবস্থায় শিশুকে লম্বা করে কোলে নিয়ে কাঁধে মাথা রেখে ঘুম পাড়ান।
শান্ত করা
শিশুকে যেনতেনভাবে শান্ত করা ঠিক নয়, মানে হাতের কাছে যা পাওয়া যায় তা তুলে দেওয়া ভালো নয়। এগুলোর অনেকগুলোই বিপজ্জনক হতে পারে। বরং তার বয়স অনুযায়ী রংবেরঙের খেলনা নিয়ে তার সঙ্গে মজা করুন। তা ছাড়া পিঠে হাত বুলিয়ে দিন। শিশুর কান্না থেমে যাবে।
শিশুর পোশাক
শিশুকে সুতি ও নরম জামাকাপড় পরাবেন। পোশাক ঢিলেঢালা হওয়া ভালো। শিশুর পোশাকে বোতাম বা হুক না লাগিয়ে ফিতা লাগান। শিশুর ব্যবহারের কাপড়চোপড় ধোয়ার সময় খেয়াল রাখবেন, যেন সাবান লেগে না থাকে। কারণ ক্ষারজাতীয় জিনিস শিশুর ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
আপগার স্কোর
জন্মের পরপরই নবজাতকের সার্বিক অবস্থা অনুধাবনের জন্য যে পর্যবেক্ষণ করা হয়, তার সংখ্যাবাচক প্রকাশই হলো আপগার স্কোর। শিশু জন্মের পরপরই শ্বাসকষ্ট নিয়ে জন্মালে জন্মের সঙ্গে সঙ্গে এবং পাঁচ মিনিট পর আপগার স্কোর করে দেখা হয়। অন্য সব স্বাভাবিক শিশুকেও আপগার স্কোর করে দেখা হয়। মোট আপগার স্কোর ১০-এর মধ্যে কেউ যদি ৮-১০ পায়, ধরে নেওয়া হয় সে খুবই সুস্থ আছে আর ৪-৭ পেলে মোটামুটি ভালো। কোনো বাচ্চার আপগার স্কোর ০-৩ থাকলে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক।
বার্থ অ্যাসফিক্সিয়া
নবজাতক জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই যদি নিজে নিজে নিঃশ্বাস নিতে ব্যর্থ হয়, তাকে বার্থ অ্যাসফিক্সিয়া বা অ্যাসফিক্সিয়া নিউনেটারাম বলে। সাধারণত এ ধরনের শিশুদের জন্মের পাঁচ মিনিট পর আপগার স্কোর ৬-এর নিচে থাকে। যদি তা ৩-এর নিচে নেমে যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে শিশুটির অবস্থা বেশ জটিল। শিশু জন্মের এক মিনিটের মধ্যে যদি শ্বাস না নেয়, তাহলে অতিদ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। এ সময় শিশুর তাপমাত্রা যেন কোনোভাবেই কমে না যায়, এ জন্য তাকে উষ্ণ কাপড়ে মুড়িয়ে রাখতে হবে। বার্থ অ্যাসফিক্সিয়া তীব্র হলে বা চিকিৎসা করতে সামান্য দেরি হয়ে গেলে শিশু মানসিক প্রতিবন্ধকতা, মৃগী, প্যারালাইসিসসহ নানা জটিলতায় ভুগতে পারে।
ওজনহীনতা
কম ওজনের নবজাতক সহজেই রোগাক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। তাই এসব শিশুর ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিতে হয়। সব সময় শিশুকে উষ্ণ রাখতে হবে, তাপমাত্রা কমতে দেওয়া যাবে না, পরিষ্কার হাতে শিশুকে ধরতে হবে এবং শিশুর পরিধানের কাপড়ও খুব পরিষ্কার রাখতে হবে। শ্বাস নিতে কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে মুখের ভেতরের লালা এবং নাকের সর্দি পরিষ্কার করে দিতে হবে। শিশুর ওজন বেশ কম হলে হাসপাতালে ভর্তি করে শিশু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। সঠিক পুষ্টির জন্য মায়ের দুধের পাশাপাশি নাকে নল দিয়ে খাবার দেওয়া, এমনকি শিরার মাধ্যমেও খাবার দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। শিশুর তাপমাত্রা কমে গেলে তাকে ইনকিউবেটরে দিতে হবে।
রক্তক্ষরণ
শিশুর জন্মের পর প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে হঠাৎ শরীরের যেকোনো স্থান দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। সাধারণত রক্তক্ষরণ ছাড়া শিশুর অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে না। এটিকে বলে হেমোরেজিক ডিজিজ অব নিউবর্ন বা নবজাতকের রক্তক্ষরণ। শরীরে ভিটামিন 'কে'-এর অভাবে এ রোগ দেখা দেয়।
নানা কারণে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, দ্বিতীয় দিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে বা বিলম্বিত রক্তক্ষরণ হতে পারে। এ সময় নাভি দিয়ে, পায়খানার সঙ্গে, নাক দিয়ে রক্তপাত হতে দেখা যায়। অনেক সময় চামড়ার নিচে রক্তপাতের কারণে লাল লাল দাগ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া বিপজ্জনক হলো মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ। আশার কথা হলো, নবজাতকের এই রক্তক্ষরণ প্রতিরোধে সহজ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি বিদ্যমান। সেটি হলো ভিটামিন 'কে' ইনজেকশন প্রয়োগ। জন্মের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ ইনজেকশন দিতে হয়। ইনজেকশন মাংসপেশিতে একবার প্রয়োগ করলেই যথেষ্ট। তবে মুখে খাওয়ালে তিন ডোজ নিতে হবে। প্রথম ডোজ নিতে হবে জন্মের চার ঘণ্টার মধ্যে। দ্বিতীয় ডোজ চতুর্থ দিনে এবং তৃতীয় ডোজ ২৮তম দিনে। ইনজেকশন নেওয়ার পরও রক্তক্ষরণের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নাভির ইনফেকশন
নবজাতকের নাভি দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত সাদা পুঁজের মতো কিছু এলে বুঝতে হবে বাচ্চার নাভিতে ইনফেকশন হয়েছে। এ অবস্থায় নাভির চারপাশ লালচে হয়ে যায়।
স্টেফাইলোকক্কাস নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এমনটি হয়ে থাকে। অনেক সময় নাভি থেকে এটি লিভারে গিয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে জন্ডিস, লিভারের ফোড়াসহ নানা রোগ হতে পারে। এ অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া উচিত। জন্মের পরপরই নাভির যত্ন নিলে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
টিকা
* জন্মের পর : বিসিজি টিকা
* ৬ সপ্তাহ : প্রথম ডোজ ডিটিপি, পোলিও, হিব এবং হেপাটাইটিস-বি টিকা
* ১০ সপ্তাহ : দ্বিতীয় ডোজ ডিটিপি, পোলিও, হিব এবং হেপাটাইটিস-বি টিকা
* ১৪ সপ্তাহ : তৃতীয় ডোজ ডিটিপি, পোলিও, হিব এবং হেপাটাইটিস-বি টিকা
* ১০ মাস : হাম, চতুর্থ ডোজ পোলিও টিকা এবং ভিটামিন-এ ক্যাপসুল।
www.kalerkantho.com
ছোট্ট মেয়েটির সাজগোজ
মা ব্যস্ত আছেন। এই তো সুযোগ! চটপট আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখভর্তি একগাদা লিপস্টিক মেখে নিল ছয় বছরের নোরা। ঠোঁটের বাইরে ছড়িয়ে গেল রং।
সাদা জামাটা দিয়ে মুছে নিল তা।
এই রে, সেরেছে! মা তো চোখ বড় করে পেছনেই দাঁড়িয়ে।
প্রায় সব মায়ের আর ছোট্ট মেয়েদের জন্য এটা যেন হররোজের ঘটনা। অনেকে মজা পেলেও এটি কিছুটা চিন্তারও কারণ বটে। রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন বললেন, শিশুদের সাজলে কোমল বা শিশুসুলভ ভাবটা থাকে না। আর বড়দের প্রসাধনী ব্যবহার করা শিশুদের স্পর্শকাতর ত্বক ও চুলের জন্য ক্ষতিকর। ছোট বয়স থেকেই যদি শিশুরা প্রসাধনী ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তাহলে খুব দ্রুতই ত্বক ও চুল নষ্ট হতে থাকবে। তিনি পরামর্শ দিলেন শিশুদের কী কী একদমই ব্যবহার করা ঠিক না।
ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা যাবে না বা বেজ মেকআপ করা যাবে না।
ব্লাশঅন, আইশ্যাডো ও মাসকারা ব্যবহার করা যাবে না। ব্লাশঅন ও শ্যাডো ব্যবহারে ত্বক নষ্ট হয় আর মাসকারা ব্যবহারে চোখের পাপড়ি ভেঙে বা ঝরে পড়ে তাড়াতাড়ি।
গাঢ় রঙা লিপস্টিক ব্যবহার করা ঠিক না। এতে শিশুদের ঠোঁট দ্রুত কালো হয়ে যাবে।
চুলে হেয়ার স্প্রে একদমই ব্যবহার করা যাবে না। এর ব্যবহারে চুল ঝরতে থাকে।
কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, কোনো পার্টিতে যাওয়ার আগে মাকে সাজতে দেখে বাচ্চা মেয়েটা হয় গোঁ ধরে বসে থাকে, না-হয় কান্নাকাটি শুরু করে দেয় তাকেও সাজিয়ে দেওয়ার জন্য। তাকে সহজে বোঝানোই মুশকিল। কী আর করা! তানজিমা বললেন এক-আধ দিন পার্টির জন্য শিশুরাও সাজতে পারে। তবে সেটা হবে শিশুসুলভ সাজ। কীভাবে সাজবে তা-ও সহজ করে বলে দিলেন তিনি।
নেলপলিশে তেমন কোনো ক্ষতি হয় না বলে নখ রাঙাতে বাধা নেই শিশুদের।
ঠোঁটে চাইলে একদমই হালকা রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করা যাবে।
*চুলের জন্য পোশাকের সঙ্গে মানায় এমন হেয়ারস্টাইল বেছে নিতে হবে। সেই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, শিশুর চুলে যেন টান না লাগে। তাতে ব্যথা তো লাগবেই, চুলও ছিঁড়ে আসবে।
*চুলে বেণি বা ঝুঁটি তো করাই যায়, এ ছাড়া খোলা চুলে রাউন্ড ব্যান্ডও ব্যবহার করা যায়। যাদের লম্বা চুল, তাদের সামনের চুলগুলো পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে বা নানা রকম বেণির বুনন করে ছোট ছোট ক্লিপ দিয়ে বাঁধা যায়। পেছনের চুল চাইলে খোলা রাখা যায় কিংবা বেণি বা ঝুঁটিও করা যায়। যাদের ছোট চুল বাধা যায় না, তাদের জন্য বাজারে নানা ধরনের ক্লিপ পাওয়া যায়। শিশুর চুল সাজিয়ে রাখে এই ক্লিপগুলো। ছোট চুলে পরা যায় প্লাস্টিক, ধাতব কিংবা কাপড়ের তৈরি রাউন্ড ব্যান্ডও।
প্রথম আলো
নকশা প্রতিবেদক | আপডেট: ০০:০৭, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৫
শিশুদের নাগালের বাইরে...
আমাদের
বাসাবাড়িতে মশা. তেলাপোকা— কীটপতঙ্গের উপদ্রব তো থাকেই। সে কারণে আমরা
বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক, স্প্রে, চক—এসব ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আমাদের বাসায় যে ছোট্ট শিশু আছে, সে যদি কখনো হামাগুড়ি দিয়ে গিয়ে কিংবা
মেঝেতে পড়ে থাকা এসব কীটনাশক মুখে দিয়ে ফেলে, তবেই তো
ঘটবে বিপত্তি! এ কারণে যেসব সতর্কতা মেনে চলা উচিত, তা
জানিয়েছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের গৃহ ব্যবস্থাপনা ও গৃহায়ণ বিভাগের সহযোগী
অধ্যাপক রীনাত ফওজিয়া।
l বাজারে আমরা সাধারণত কীটপতঙ্গ মারার যেসব স্প্রে কিনে থাকি, সেসব স্প্রের কৌটার গায়ে লেখা থাকে ‘বাচ্চাদের হাতের নাগালের বাইরে রাখুন’। নিয়মটা বড়দের অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
l বাচ্চারা ঘরে থাকা অবস্থায় কখনোই কীটনাশক স্প্রে করা উচিত নয়। তাদের ঘর থেকে বাইরে সরিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরের চার কোনায় ওপরের দিকে স্প্রে করতে হবে। স্প্রে করার ৫-১০ মিনিট পর দরজা-জানালা খুলে দিয়ে বাচ্চাদের ঘরে প্রবেশ করাতে হবে।
l মশা মারার বৈদ্যুতিক ব্যাট ব্যবহার করলেও দরজা-জানালা বন্ধ করে বাচ্চাদের সরিয়ে তারপর করতে হবে। তারপর দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে।
l মশা মারার ব্যাট দিয়ে অনেক
সময় বাচ্চারা দুষ্টুমি করে। তা থেকে বিপদ ঘটতে পারে। তাই অবশ্যই ব্যাটটি এমন
স্থানে রাখতে হবে, যেন বাচ্চারা এটা দিয়ে খেলা না করতে
পারে।
l মেঝেতে আমরা অনেক সময় ইঁদুর
কিংবা তেলাপোকা মারার জন্য কীটনাশক বা গুটি দিয়ে থাকি; বাচ্চারা
হামাগুড়ি দিয়ে এসব জায়গায় গিয়ে ওষুধ হাতে নিয়ে মুখে দিয়ে ফেলতে পারে। তাই
অত্যন্ত সতর্কভাবে রাতে এসব কীটনাশক মেঝেতে দিয়ে সকালে বাচ্চারা ঘুম থেকে ওঠার
আগেই তাড়াতাড়ি সরিয়ে ফেলতে হবে এবং মেঝেটা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। কীটনাশক যদি
শক্ত কাগজে করে দেওয়া হয়, তবে সেই কাগজও ফেলে দিন।
l অনেক সময় আমরা মেঝেতে চক
ব্যবহার করে থাকি তেলাপোকা কিংবা ইঁদুর মারার জন্য। যে স্থানে চক দেওয়া হবে,
ভোরে মেঝের সেসব স্থান ভালো করে ক্লিনার দিয়ে মুছে ফেলতে হবে।
l অনেক সময় তরল কীটনাশক বাজার
থেকে কিনে এনে বিভিন্ন ধরনের বোতলে, ঢেলে রাখা হয়।
বাচ্চারা সেসব না বুঝে মুখে দিতে পারে। তাই বোতলগুলো শিশুর হাতের নাগালের বাইরে
রাখতে হবে এবং অবশ্যই বোতলের ওপর ‘বিষ’
লেখা লেবেল দিতে হবে।
কীটপতঙ্গের সংক্রমণে
সাধারণত কীটপতঙ্গের সংক্রমণে বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের অসুখ হতে পারে। আবার এসব কীটপতঙ্গ মারার জন্য যেসব কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, তা থেকেও বাচ্চাদের বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ হতে পারে—এমনটা বলছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ) মাহবুব মোতানাব্বি। এ ক্ষেত্রে তাঁর পরামর্শ হলো:
l ঘরের কোনায় মৃত কীটপতঙ্গের যে অঙ্গগুলো পড়ে থাকে, সেগুলো থেকে বাচ্চাদের পেটের পীড়া হতে পারে। তাই এসব পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। খাবার সব সময় ঢেকে রাখতে হবে, যেন কীটপতঙ্গ খাবারের ওপর হাঁটতে না পারে।
l ঘরের কোনায় মৃত কীটপতঙ্গের যে অঙ্গগুলো পড়ে থাকে, সেগুলো থেকে বাচ্চাদের পেটের পীড়া হতে পারে। তাই এসব পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। খাবার সব সময় ঢেকে রাখতে হবে, যেন কীটপতঙ্গ খাবারের ওপর হাঁটতে না পারে।
l অনেক সময় পিঁপড়া দমনের জন্য যেসব গুঁড়া ব্যবহার করা হয়, তাতে ডিডিটি থাকে। বাচ্চারা না বুঝে যদি এসব গুঁড়া ওষুধ মুখে দিয়ে ফেলে, তাহলে ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে, ছোট বাচ্চাদের জন্য এটা অত্যন্ত মারাত্মক।
l মশা মারার জন্য পাউডার বা স্প্রে কোনোটাই ব্যবহার না করে নেট ব্যবহার করা ভালো। ঘরের যেসব জায়গা দিয়ে মশা ঢুকতে পারে, সেসব জায়গায় নেট ব্যবহার করা যেতে পারে।
l ঘরদোর সব সময় পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে, যেন পোকামাকড়ের জন্ম না হয়।
l বহুতল ভবনের সিঁড়ি বা বারান্দার কোনো জায়গায় অব্যবহূত জিনিস, উচ্ছিষ্ট ময়লা কিংবা পানি যেন জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
l মশা মারার জন্য ঘরে কয়েল ব্যবহার না করাই ভালো। যদিও করেন, তবে বাচ্চাদের জন্য আলাদা মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। তা না হলে যেসব বাচ্চার হাঁপানির সমস্যা আছে, তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে।
l যেকোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করলে তা ব্যবহারের পর পর পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।
বিশেষ করে মেঝে পরিষ্কারের সময় মাঝেমধ্যে পানিতে তরল জীবাণুনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।
নাঈমা আমিন
l মশা মারার জন্য পাউডার বা স্প্রে কোনোটাই ব্যবহার না করে নেট ব্যবহার করা ভালো। ঘরের যেসব জায়গা দিয়ে মশা ঢুকতে পারে, সেসব জায়গায় নেট ব্যবহার করা যেতে পারে।
l ঘরদোর সব সময় পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে, যেন পোকামাকড়ের জন্ম না হয়।
l বহুতল ভবনের সিঁড়ি বা বারান্দার কোনো জায়গায় অব্যবহূত জিনিস, উচ্ছিষ্ট ময়লা কিংবা পানি যেন জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
l মশা মারার জন্য ঘরে কয়েল ব্যবহার না করাই ভালো। যদিও করেন, তবে বাচ্চাদের জন্য আলাদা মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। তা না হলে যেসব বাচ্চার হাঁপানির সমস্যা আছে, তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে।
l যেকোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করলে তা ব্যবহারের পর পর পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।
বিশেষ করে মেঝে পরিষ্কারের সময় মাঝেমধ্যে পানিতে তরল জীবাণুনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।
নাঈমা আমিন
সুত্র প্রথম আলো
Thursday, June 30, 2016
শিশুতোষ ভিডিও
জনপ্রিয় ছোটদের গান
Bangla Rhymes
সিসিমপুর বাংলা কার্টুন”
English rhymes for children
Funny Animals Cartoons Compilation
Funny animal videos for children
Barbie cartoon in bangla
Mina raju bangla cartoon
ইশপের গল্প
ISHOPER GOLPO
ঠাকুরমার ঝুলি
বাংলা মোটু পাতলু
Motu Patlu
বাংলায় ডরেমন কার্টুন
Doremon
Nursery Rhymes Bengali বাংলা
ছড়া
Subscribe to:
Posts (Atom)










