Saturday, January 28, 2017

পদ্মপরি

 
kidszonebd

পদ্মপরি ভর করেছে আমার নাতনির মাথায়—পদ্মপরি তাকে ছাড়ছে না কিছুতেই। দোষটা অবশ্য ষোলো আনাই আমার। রোজ রাতে তাকে পদ্মপরির গল্প শোনাই, আলতাপরি-সমুদ্রপরি-মেঘপরিসহ কত-না রূপকথার গল্প আমি শোনাই তাকে! ও গল্প শুনতে খুব ভালোবাসে। আমার ঝুলিতে আর কত গল্প জমা আছে! তাই, গল্প শোনাই ওকে বানিয়ে বানিয়ে। ওর দাদির ঝুলি সেই কবে শেষ।
বানানো গল্পের ভেতর ওর সবচেয়ে বেশি পছন্দ পদ্মপরির গল্প। পরিটা আমার নাতনিরই বয়সী। তার শরীরের রং পদ্মপাপড়ির মতো গোলাপি, মাথার চুলগুলো সোনালি, বড় বড় হরিণচোখের রং আকাশের মতো নীল, খিলখিল করে হাসে যখন সে, তখন মুক্তোর মতো দাঁতগুলো থেকে যেন আলো ছিটকে বেরোয়, সারা শরীরে তার পদ্মফুলের গন্ধ মাখানো। চমৎকার দুই খানা পাখা আছে তার, পাখার রং জামদানি শাড়ির কারুকাজ করা পাড়ের মতো সুন্দর। জামদানি শাড়ি তো নাতনির মায়ের আছে দুজোড়া। পদ্মপরির ডানা থেকে রং এনে বানানো হয়েছে শাড়িগুলোর পাড়—এ রকম বিশ্বাস আমার নাতনির। গত এক বছরে পদ্মপরির যতগুলো গল্প আমি শুনিয়েছি ওকে, তা লিখে রাখলে একখানা মোটাসোটা পরিকাব্য বা পরিকাহিনি নামক বই হয়ে যেত।
পদ্মপরিটা থাকে চাঁদে। ওখানেই ওদের সোনার রাজপ্রাসাদ। সেই প্রাসাদের সিঁড়িগুলো মুক্তো দিয়ে বানানো, তার ওপরে হীরার কারুকাজ। প্রতি পূর্ণিমা রাতে পরিটা আকাশ থেকে নেমে আসে আমাদের বাড়ির পাশের হাওরের পদ্মবনে। বিশাল পিতলের থালার মতো বড় বড় পদ্মপাতার মঞ্চে সে খুশিতে নাচে। পদ্মফুলের পাপড়িতে হেঁটে বেড়ায়। হাওরের টলটলে জল ছুঁয়ে মনের আনন্দে ওড়ে, ঘুরে বেড়ায়।
আমার নাতনিটার নাম সীমা। ওর দাদি ডাকেন সোনামণি। আমি ডাকি পরি বলে। স্কুলে যাওয়ার বয়স এখনো ওর হয়নি। সবে চার বছর পেরিয়েছে। ওর সবচেয়ে বড় বন্ধু আমি। আমার ক্ষেত্রেও তা-ই। চাকরিজীবন থেকে অবসর নিয়ে, চট্টগ্রাম থেকে গ্রামে চলে এসেছি। পরির বাবা—আমার বড় ছেলে প্রাইমারি স্কুলের মাস্টার। গ্রামেই থাকে সে। আমি আর পরির দাদি বাড়িতে আসার পরে পরির যেন সত্যিই পদ্মপরির মতো সোনালি পাখা গজিয়েছে। রাতে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমাবে ও দাদা-দাদির মাঝখানে।
প্রায় ৪০ বছর থেকেছি দেশের নানা শহরে। তাই গ্রামে আমার বন্ধুবান্ধব তেমন নেই। দক্ষিণ পাড়ার হাওরপাড়ের হাশেম আলী, এখন যে একনামে পরিচিত ‘পুতুল বুড়ো’ নামে, সে আর আমি একসঙ্গে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়েছিলাম। বাল্যবন্ধু। এখন আমার অঢেল সময়। বিকেল বা সন্ধ্যায় তার বাড়িতে যাই। গল্পগুজবে সময় ভালোই কাটে। আমি চাকরি থেকে অবসর নিলেও হাশেম কিন্তু তার পেশা ছাড়েনি। সে সিক্স পর্যন্ত পড়ার পর তার বাবার সঙ্গে দূর-দূরান্তের মেলায় যেত ‘পুতুলনাচ’ দেখাতে। বানাত সুন্দর সুন্দর কাপড়ের পুতুল। তার তৈরি পুতুলের অনেক চাহিদা। পাইকারেরা এখন তার বাড়িতে এসে নানান নামের, নানান পুতুল নিয়ে খুলনা-ঢাকা-চট্টগ্রাম পাঠান। আমিও গেল এক বছরে হাশেমের কাছ থেকে অনেক পুতুল এনে দিয়েছি পরিকে। বাড়ির একটা রুম এখন ওই পুতুলগুলোর দখলে। ওটাই ওর খেলাঘর-পুতুলঘর।
আজ সন্ধ্যার পরে পরি আমাদের রুমে এসে বড় বড় চোখে বলল, ‘দাদা! কালকে কিন্তু পূর্ণিমা! আমি কিন্তু কাল রাতে পদ্মপরিকে দেখতে যাবই যাব!’
না, পদ্মপরি তো কোনো কিছুতেই নামছে না পরির ঘাড়-মাথা থেকে! হাওরে এখন পানি বেশি। পদ্মফুলও সব দুর্গাপুজোর সময় চালান হয়ে গেছে খুলনা-ঢাকায়। পুজোর পাঁচ দিনের প্রতিদিনই ১০৮টি করে পদ্মফুল লাগে। তা ছাড়া, হাওরে আছে মাথাকাটা দৈত্য। হিজল-করমচাগাছে থাকে জিন-পরিরা। কিন্তু কিসের কী! প্রতিবারই বলে, ‘তুমি আছ না? তুমিই না কত দৈত্য-দানব-জিন-ভূতকে পা ধরে বোঁ বোঁ করে ঘুরিয়েছ?’
নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই আটকা পড়া বলে একে।
‘ও দাদা, কাল সন্ধ্যায় হাওরে নিয়ে যাবে তো? পদ্মপরিকে দেখার খুব শখ আমার।’
এ সময়ে নামাজ শেষ করে ওর দাদি ওকে উসকে দিলেন, ‘সোনামণিরে! তোর দাদা ইচ্ছে করলে পদ্মপরিটাকে ধরে এনে খাঁচায় পুরে পুষতেও পারে। তুই রোজ ওকে পদ্মটুনা খাওয়াবি, গরু-ছাগলের দুধ খাওয়াবি, পোষ মেনে গেলে পরিটা তোর বান্ধবী হয়ে যাবে। আমাদের মাঝখানে ঘুমোবি তোরা দুজনে।’
একেই বলে কারেন্ট জালে আটকা পড়া! অনেক কথার পরে পরিকে বললাম, ‘যাব আমরা পদ্মমহালে। তবে পদ্মপরি এখনো ছোট তো! এখন এনে পোষা যাবে না। বড় হলে ধরে আনব।’
আমার পরি যা একখানা হাসি এবার দিল না!
হাওরের পূর্ব প্রান্তে বুদ্ধপূর্ণিমার গোলগাল চাঁদ। তালের ডোঙায় চড়েছি আমি আর পরি। পদ্মমহালে এসে পড়লাম আমরা। শত শত পদ্মফুল ফুটে আছে—রাতেই ফোটে পদ্মরা। দিনে ঘুমায়।
ডোঙা ঢুকিয়ে দিলাম পদ্মবনের ভেতরে। একটি পদ্মপিপি পাখি ভয় পেয়ে উড়ে পালাল ডাকতে ডাকতে। আরেকটু এগিয়ে আমরা হিজলগাছটার কাছে থামলাম, হাত বাড়ালাম হাত দশেক সামনের পদ্মপাতার মঞ্চটার দিকে। পরি সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পেল পদ্মপরিটাকে, মঞ্চের ওপরে চিত হয়ে শুয়ে তাকিয়ে আছে চাঁদটার দিকে। আমার কোলে বসা পরি ভয় ও উত্তেজনায় কাঁপছে। ও মা! পদ্মপরিটা উঠে বসল, পাতার মঞ্চে নাচল কয়েক পাক। শোনা গেল ঘুঙুরের আওয়াজ। তারপরে একটা ফুলের পাপড়িতে দাঁড়িয়ে নাচল আরও কয়েক পাক। তারপরে লাফ দিয়ে শূন্যে উঠে সোনালি ডানায় উড়ল কিছুক্ষণ। তারপরে আবার সেই পাতার মঞ্চটায় এসে শুয়ে পড়ল চিত হয়ে।
আমি ফিসফিস করে বললাম, ‘পরি! ও এখন ঘুমোবে। চল, আমরা ফিরে যাই!’
পরি রাজি হলো। আমি ডোঙার মুখ ঘুরিয়ে রওনা দিলাম।

হাসি কত প্রকার ও কী কী



কেউ হাসে হা-হা আর কেউ হাসে হি-হি
কারও হাসি খসখসে কারও খুব মিহি
কেউ হাসে হে-হে আর কেউ হাসে হো-হো
কেউ খুব ছটফটে কেউ নির্মোহ

কেউ হাসে হি-হি আর কেউ হাসে হু-হু
হেসে হেসে চাকু মেরে বলে আহা উহু
কেউ হাসে হো-হো আর কেউ হাসে হা-হা


তুলনাবিহীন হাসি বলব কী আহা
কেউ হাসে ঠোঁটে-মুখে কেউ চোখে-চোখে
হৃদয়টা ফালা-ফালা কে-বা তাকে রোখে
কেউ হাসে চেপে চেপে কেউ মিটিমিটি
কেউ হাসে কুটুকুটু কেউ কিটিকিটি
অট্টহাসিতে কারও, কেঁপে ওঠে ছাদ
কারও হাসি ঠোঁটে যেন গলে পড়া চাঁদ

হাসতে হাসতে কেউ ঢলে পড়ে কোলে
তাক ধিনা ধিন ধিনা তবলার বোলে


কারও হাসি ফিকফিক কারও খিকখিক
উল্টাপাল্টা হাসে কেউ ঠিকঠিক
কেউ হাসে তালা মেরে কেউ দিল খুলে
কেউ হাসে হাত নেড়ে কেউ দু পা তুলে
নীরবে গোপনে কেউ হাসে একা একা
পর্দার আড়ালে তা যায় না তো দেখা
হাসতে হাসতে কারও চোখে আসে পানি
বোকা-বোকা হাসে কেউ একেবারে ফানি


কৌতুক শোনা-হাসি পেটে ধরে খিল
হাসির সঙ্গে হাসি নেই কোনো মিল
হিটলারি হাসি কারও মোনালিসা হাসি
কারও হাসি মনে হয় অবিকল কাশি
কাকে বলে হাসি আর ক প্রকার কী কী
গবেষণা করে বের করবই ঠিক-ই
কাঁদতে চাই না কেউ হাসি ভালোবাসি
হাসি নিয়ে চলো শুধু করি হাসাহাসি।


prothom-alo

ঘুম তাড়ানো ভূত



অনেক অনেক কাল আগের কথা। এক দেশে হঠাৎ করে এক আজব ভূতের আগমন ঘটে। সেই ভূত রাতের বেলা মানুষের ঘুমানোর সময় কাছে গিয়ে একটা মন্ত্র পড়ত। মন্ত্র পড়ার পরে সে গায়েব হয়ে যেত। আর মানুষ কাশতে শুরু করত। এইভাবে সে মানুষের ঘুম তাড়িয়ে দিত। সারা দিন কাজ করে বেচারা মানুষদের কেবল যখন ঘুম পেয়েছে, তখনই তারা কাশতে শুরু করত। দিনভর কাজকর্ম করে ঘরে ফিরে যদি রাতে না ঘুমানো যায়, তাহলে কি আর মন ঠিক থাকে?
সেই দেশের রাজা কত ওঝাকেই না ডাকলেন, কিন্তু ওঝারা শত চেষ্টায়ও কিছুই করতে পারল না। শেষে খবর এল, এক দেশে এক ভূত আছে, যে মানুষের কাশি দূর করে দেয়। রাজা তখন তাকেই ডাকলেন সাহায্যের জন্য। সে বিনা দ্বিধায় রাজি হয়ে গেল।
সে ছিল ভূতদের মধ্যে সবচেয়ে বড় যোদ্ধা। তো সে রাতের বেলা ঘুম তাড়ানো ভূতটির আগমনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, লুকিয়ে অদৃশ্য হয়ে।
একসময় ঘুম তাড়ানো ভূতটি এল। যোদ্ধা ভূতটাও অন্য একটি মন্ত্র বলার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। ঘুম তাড়ানো ভূত ও যোদ্ধা ভূত একসঙ্গে মন্ত্র শুরু করল এবং একসঙ্গে শেষ করল।
ঘুম তাড়ানো ভূতের অনেকক্ষণ ধরে মনে হচ্ছিল, কেউ এখানে আছে। তাই সে মন্ত্র বলা শেষ হওয়ার পরেও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল কাশির শব্দ শোনার জন্য।
যখন সে একটুও কাশির আওয়াজ শুনতে পেল না, তখন অবাক হলো। তার মনে ভয় ঢুকে গেল। ঠিক তখনই যোদ্ধা ভূত তার সামনে এল। ঘুম তাড়ানো ভূতটি যোদ্ধা ভূতকে দেখে গেল ভড়কে। সে আমতা-আমতা করে কোনোমতে বলল, ‘আপনি এখানে কী করছেন?’
‘তোকে মারতে এসেছি।’ হুংকার দিয়ে উঠল যোদ্ধা ভূত।
সঙ্গে সঙ্গে সে নিজের তির বের করে ধনুকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল এবং তির নিক্ষেপ করল। এই তির বিদ্ধ হয়ে ঘুম তাড়ানো ভূত বিকট শব্দে আর্তনাদ করে উঠল।
আশপাশের লোকজন সবাই ছুটে এল। তাদের কাশি থেমে গেছে। তাদের সঙ্গে রাজাও এলেন। রাজা বললেন, ‘তুমি আমার প্রজাদের জন্য যা করেছ, তা আমি কখনো ভুলব না। আমি তোমাকে আমার রিজার্ভ ফোর্সের সেনাপতি হিসেবে ঘোষণা করলাম। দেশে যখন কোনো দুর্যোগ হবে, তখন তোমাকে এগিয়ে আসতে হবে।’ যোদ্ধা ভূত রাজার কথায় সম্মতি জানাল।
সেই থেকে প্রজারা আবার সুখে শান্তিতে ঘুমাতে পারল। আর যোদ্ধা ভূত মহা সুখে সেই দেশে বাস করতে থাকল। আর অপেক্ষা করতে লাগল দেশের কোনো দুর্যোগে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।

তৃতীয় শ্রেণি, মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ
সুত্র প্রথম আলো

Friday, January 27, 2017

অজানা


ট্রেনটা সশব্দে লাকসাম স্টেশনে এসে থামল। যাত্রীরা সব একের পর এক হুড়মুড় করে নামতে লাগল। প্রাপ্তিও বাবার হাত ধরে নেমে গেল। প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে প্রাপ্তির। বাবারও একই অবস্থা। বাবা প্রাপ্তিকে স্টেশনের যাত্রীছাউনিতে বসিয়ে ট্যাক্সির সন্ধানে বেরিয়ে গেল।
প্রাপ্তিদের গ্রামের বাড়ি স্টেশন থেকে বেশ দূরে। ট্যাক্সিতে যেতে কমপক্ষে এক ঘণ্টা তো লাগেই। ওরা চট্টগ্রামে থাকে। বাড়িতে একটা অনুষ্ঠান উপলক্ষে এসেছে প্রাপ্তি আর বাবা।
একটু পর বাবা হতাশমুখে ফিরে এলেন। যা ভেবেছিল তাই, বাবা ট্যাক্সি পায়নি। এই সন্ধ্যায় ট্যাক্সি না পেলে কীভাবে যাবে ওরা? অনুষ্ঠান অবশ্য কাল।
‘প্রাপ্তি, চল্ আগে একটা হোটেল থেকে ভাত খেয়ে আসি। কী বলিস?’ বাবার কথায় প্রাপ্তিও রাজি হয়ে গেল। খিদেয় পেট জ্বলছে। অর্ডার দেওয়ামাত্রই খাবার চলে এল। দেরি না করে প্রাপ্তি আর বাবা গপাগপ খেয়ে ফেলল। বিল দিয়ে বেরিয়ে এসে বাবা আবার ট্যাক্সি খুঁজতে লাগল। কিন্তু কেউই যেতে চায় না। শেষমেশ দ্বিগুণ ভাড়ায় একটা ট্যাক্সি পাওয়া গেল। ট্যাক্সিতে উঠে বাবা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। ‘যাক্, পাওয়া গেল ট্যাক্সিটা। না হলে যে আজ কী হতো!’
ট্যাক্সি চলতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ঠাস করে একটা শব্দ হলো। প্রাপ্তি চমকে উঠল। কী হলো? ট্যাক্সিওয়ালা বলল, ‘ভাই, আর যাওন যাইব না। টায়ার ফাইট্টা গেছে। আপনারা নাইম্মা যান।’
অবস্থা দেখে দুজন নেমে গেল। ট্যাক্সি ড্রাইভার ট্যাক্সি মেরামত করার চেষ্টা করতে লাগল। প্রাপ্তি আর বাবাও হাঁটা শুরু করল। জায়গাটা নির্জন। পথে কোনো গাড়িও নেই। হাঁটতে হাঁটতে ওরা সামনে একটা হোটেল দেখতে পেল। হোটেলের দোতলা ভবনটা বেশ পুরোনো। নামটা জ্বলজ্বল করছে আলোয়, ‘কুমুদিনী হোটেল’।
ভেতরে ঢুকে ওরা দেখল, ভেতরের অবস্থা বাইরের থেকে ভালো। তবে কেমন যেন পরিবেশটা। এখানে রাতটা কাটিয়ে দিতে পারলেই হলো। ভোরে বেরিয়ে পড়তে হবে। দোতলার একটা ঘর ভাড়া নিল প্রাপ্তিরা। প্রাপ্তি বাবার কাছ থেকে চাবিটা নিয়ে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেল। বাবাও পেছন পেছন আসতে লাগল।
প্রাপ্তি দোতলায় উঠে ওদের ঘরটা দেখে নিল। বেশ পরিচ্ছন্ন। দুটো বিছানা পাশাপাশি। জুতা খুলে একটা বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই এতক্ষণ ঝিম ধরে থাকা ঘুম জাপটে ধরল। ঘুমিয়ে পড়ল প্রাপ্তি।
হঠাৎ কথা বলার শব্দে ঘুম ভাঙল ওর। চোখ খুলে দেখল অনেক মানুষ আশপাশে দাঁড়িয়ে আছে। বাবার কোলে তার মাথাটা রাখা। বাবা মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। চারপাশে তাকিয়ে চেনা গেল না জায়গাটা। কাল রাতের হোটেলটা তো নয়। এটা কোন জায়গা?
‘তুই স্টেশন থেকে কাল কোথায় গিয়েছিলি?’ বাবার প্রশ্নে অবাক হয়ে শোয়া থেকে ধরমড় করে উঠে বসল প্রাপ্তি। ‘তুমিই না আমাকে কাল স্টেশন থেকে নিয়ে গেলে? তারপর আমাদের গাড়ি নষ্ট হয়ে গেল। আমরা কুমুদিনী হোটেলে গেলাম।’
শুনে পাশ থেকে একজন বললেন, ‘যা ভেবেছিলাম। এটা সেই অভিশপ্ত হোটেলের কেস।’ প্রাপ্তি এতক্ষণ খেয়াল করেনি, পাশে একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছেন। পুলিশটা বললেন, ‘ভাই, আমরা এটার ব্যাপারে গত দুই বছর ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি। কোনো সমাধান পাইনি। এখন আমরাও বিশ্বাস করতে শুরু করেছি, ব্যাপারটা অতিপ্রাকৃত।’
‘আমি পুরো ব্যাপারটা শুনতে চাই। আমাকে কি আপনারা একটু বলবেন, কী ঘটেছিল?’ বাবা সবার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল। একজন বলতে শুরু করলেন, ‘আজ থেকে পাঁচ বছর আগে কুমুদিনী হোটেল নামে একটা হোটেল ছিল। সেখানে এক রাতে এক নিষ্ঠুর বাবা নিজ হাতে তার মেয়েকে খুন করেন। পরে নিজেও আত্মহত্যা করেন। সেই থেকে ওই হোটেল পুলিশি ঝামেলায় বন্ধ হয়ে যায়। তবে লোকমুখে প্রচলিত আছে, এখানে প্রতিবছর খুনের দিনটায় সেই হোটেলটা জেগে ওঠে। গত বছর এই সময়ে একটা মেয়ের লাশ পাওয়া গিয়েছিল। আপনার সৌভাগ্য যে মেয়েটা বেঁচে গেছে।’
বাবা অবিশ্বাস ভরা চোখ নিয়ে তাকাল প্রাপ্তির দিকে। প্রাপ্তি রাতের সব ঘটনা এক এক করে খুলে বলল। সব শুনে এক লোক বললেন, ‘হ্যাঁ, হোটেলটার যে রকম বর্ণনা দিয়েছে ও, তেমনই ছিল। হোটেলের জীর্ণ বিল্ডিংটা এখনো আছে। আর ওকে বিল্ডিংয়ের ভেতরেই পাওয়া গিয়েছিল জ্ঞানহীন অবস্থায়।’
বাবা এরপর আর কথা না বাড়িয়ে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে থানা থেকে প্রাপ্তিকে নিয়ে বেরিয়ে এল। সেবার আর তাদের বাড়ি যাওয়া হয়নি। চট্টগ্রামে আবার ফিরে এসেছিল ওরা। সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল ভয়, আতঙ্ক আর অবিশ্বাস মেশানো এক অভিজ্ঞতা।
আজ প্রায় এক বছর কেটে গেছে। কিন্তু প্রাপ্তির মন থেকে একটা প্রশ্ন আজও দূর হয়নি। আচ্ছা, স্টেশন থেকে ও হোটেলে গিয়েছিল কার সঙ্গে?


সপ্তম শ্রেণি, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ
সুত্র প্রথম আলো

Saturday, September 3, 2016

সন্তানের অপরাধ দায় কার?



কায়সার সাহেব আর তাঁর স্ত্রী গিয়েছেন একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে। কিন্তু তাঁরা সেখানে উপস্থিত হতেই সবাই কেমন যেন ম্রিয়মাণ হয়ে গেলেন। অন্য অতিথিরা কেউ এগিয়ে এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন না। খাবার সময় আরও বিপত্তি। তাঁদের টেবিলে কেউ বসছেন না! উল্টো তাঁদের টেবিল থেকে কেউ কেউ উঠে চলে গেলেন। কারণটা হচ্ছে তাঁদের পুত্র পরাগ। পরাগ মাস খানেক আগে একটি চাঞ্চল্যকর অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে। পত্রপত্রিকা, টিভি চ্যানেল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবখানে পরাগ আর পরাগের পরিবারের ছবি প্রকাশিত হয়েছে। পরাগকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। সে এখন পলাতক। কায়সার সাহেব সাংবাদিকদের ডেকে বলেছিলেন তিনি পরাগের কোনো খবর জানেন না, পরাগের সঙ্গে তিনি সব সামাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই পরাগের কারণে তার মা-বাবাকে এ ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সন্তান যদি কোনো অপরাধ করে তখন নানাভাবে মা-বাবাকে দায়ী করা হয়। বেশির ভাগ সময় এই অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না থেকেও মা-বাবারা সামাজিকভাবে কিছুটা একঘরে হয়ে পড়েন। গণমাধ্যম তাঁদের নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশন করে। মনোসামাজিক বিশ্লেষকেরা সন্তানের অপরাধের দায়ে মা-বাবাকেও দায়ী করে ফেলেন। একদিকে সন্তানের অপরাধের কারণে তাঁরা বিব্রত-লজ্জিত, প্রিয় সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর শাস্তি নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত। অন্যদিকে আশপাশের মানুষ যখন তাঁদের এড়িয়ে চলছেন, তখন তাঁরা মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত। অপরাধী যেই হোক তার অপরাধের মূল দায়টুকু তারই। কারও অপরাধের কার্যকারণ খুঁজে বিশ্লেষণ করা বা অপরাধী হওয়ার পথ খুঁজে দেখা বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব। সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তি কিন্তু এই ভূমিকা নিতে পারেন না। কারও সন্তান মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে বা মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছে, কারও সন্তান স্ত্রী নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত, অনৈতিক অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়েছে, হত্যা মামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে—সে ক্ষেত্রে সেই পরিবারের চারপাশের মানুষেরা প্রায় সব সময় বিচারিক দায়িত্ব পালন করে ফেলে।
বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের তোয়াক্কা না করে ‘বাবার জন্যই ছেলের এই অবস্থা;’ ‘মায়ের চালচলনের জন্যই মেয়ের এই পরিণতি’ অথবা ‘যেমন বাবা-মা তেমন সন্তান’—এই ধরনের সরলীকরণ করে ফেলেন কেউ কেউ। হ্যাঁ সন্তানের বেড়ে ওঠায়, তার মনোজগৎ তৈরিতে, তার নৈতিকতার শিক্ষায় মা-বাবা বা পরিবারের গুরুত্ব অপরিসীম কিন্তু পরিবারই একমাত্র বিষয় নয়। একটি সুসংগঠিত পরিবার সন্তানের আদর্শ মনোজগৎ গড়ে তুলতে পারে কিন্তু কখনো কখনো পরিবারকে ছাপিয়ে পরিবেশ আর সমবয়সীদের প্রভাব (পিয়ার প্রেশার) সেই আদর্শ মনোজগৎ তৈরিতে বিপত্তি তৈরি করতে পারে। ফলে ঢালাও আর এককভাবে পরিবারকে দায়ী করা যাবে না। একটা সাধারণ ধ্রুব সত্য বিশ্বাস করতে হবে যে মা-বাবা কখনোই সন্তানের অমঙ্গল চান না। কখনো তাঁদের ভালো করতে চাওয়ার প্রক্রিয়ায় ভুল থাকার কারণে সন্তান বিপথগামী হতে পারে। আবার সঙ্গদোষে সে জড়িয়ে পড়তে পারে অপরাধে, কোনো মানসিক সমস্যার কারণে সন্তানের মনোবিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি কোনো বিশেষ গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কোমলমতি তরুণদের মধ্যে অন্ধকারের বীজ রোপণ করে দিতে পারে।
সন্তান যখন এমন কোনো একটি অন্ধকারের পথে নিরুদ্দেশ যাত্রা শুরু করে একসময় তা সবার গোচরে চলে আসে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সংবাদকর্মী, স্বজন, প্রতিবেশী, সাধারণ মানুষ সবাই তখন বিষয়টি নিয়ে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে প্রতিক্রিয়া দেখানো শুরু করে দেয়। এ সময় মা-বাবারা একধরনের তীব্র মানসিক চাপের মুখোমুখি হন। এই চাপ পরে দীর্ঘমেয়াদি হলে মা-বাবার মধ্যে উদ্বিগ্নতা, হতাশা, বিষণ্নতা, অস্বাভাবিক আচরণসহ নানা মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অবস্থা থেকে বের হতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। মনে রাখবেন প্রত্যেকের অপরাধ স্বতন্ত্র। মা-বাবা যদি প্রত্যক্ষভাবে সন্তানের অপরাধের সঙ্গে জড়িত না থাকেন, তবে কোনোভাবেই তাঁদের দায়ী করা যাবে না। আর সন্তান এবং মা-বাবার মধ্যে যে বন্ধন থাকে তা অপার্থিব। সন্তানের অপরাধ তা যতই গুরুতর হোক, কোনোভাবেই এই বন্ধনকে ছিন্ন করতে পারে না।
কী হয় মা-বাবার মনে
* প্রথমেই তাঁদের মনে সন্তানের জন্য উদ্বিগ্নতা আর দুশ্চিন্তা আসে। তাঁর সন্তান গ্রেপ্তার হবে কি না? গ্রেপ্তার হলে তার অপরাধের সাজা কী হবে? সে এখন কোথায় আছে, কেমন আছে? এগুলো সব মা-বাবার চিরায়ত চিন্তা। এই চিন্তায় তাঁদের ঘুম হয় না, খাওয়া হয় না, দৈনন্দিন জীবন বাধাগ্রস্ত হয়।
* অপরাধ করার সময় সন্তানের অপমৃত্যুও হতে পারে কখনো। সে ক্ষেত্রে মা-বাবার মধ্যে শোক আর লজ্জার মিশ্র আবেগ তৈরি হয়। এই তীব্র আবেগের চাপে তাঁদের কারও কারও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।
* সন্তানের অপকর্মের জন্য তাঁরা বিব্রত আর লজ্জিত বোধ করেন। কখনো নিজেদের দায়ী করেন। তাঁদের মধ্যে একধরনের হীনম্মন্যতা আর অপরাধ বোধের জন্ম হয়।
* তাঁদের মধ্যে একধরনের ‘অস্বীকৃতি’ (ডিনায়েল) পর্যায় শুরু হয়। এটি দুভাবে হতে পারে। কখনো তাঁরা সন্তানের অপরাধকে স্বীকার করেন না কিংবা সন্তান এ ধরনের অপরাধ করতে পারে তা বিশ্বাস করেন না, শত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা সবকিছুকে ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন। আবার কারও মধ্যে অপরাধটি মেনে নিয়ে সন্তানকেই অস্বীকার করা শুরু করার প্রবণতা দেখা যায়। সন্তানের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। এমনকি সন্তানের মৃত্যু হলেও প্রথাগত পারলৌকিক নিয়ম ও দায়িত্ব পালন করা থেকে বিরত থাকেন।
* আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জেরা, সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর আর আশপাশের মানুষের আচরণের কারণে তাঁরা নিজেদের অপরাধী ভাবা শুরু করেন। সবকিছু থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন। চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে যান কেউ কেউ।
* এই পরিস্থিতিতে কোনো কোনো মা-বাবার মধ্যে আচরণের পরিবর্তন দেখা দেয়। তাঁদের মধ্যে অতি উৎফুল্লতা বা অতি বিষাদ হতে পারে। অস্বাভাবিক কথা আর কাজ করেন। বিনা কারণে রেগে যান। কখনো মৃত্যুচিন্তা তাঁদের আচ্ছন্ন করে ফেলে।
মা-বাবারা কী করবেন
* সন্তানের অপরাধের জন্য নিজেদের দায়ী করবেন না। আপনার উদ্দেশ্য যদি অশুভ হয়ে না থাকে তবে সন্তানের কৃত অপরাধের জন্য নিজেকে দোষী ভাববেন না।
* পরস্পরকে দায়ী করা যাবে না, মা বাবাকে দায়ী করেন আবার কখনো বাবা মাকে। এই পারস্পরিক দায়ী করার প্রবণতা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
* স্বজন, বন্ধু আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুন। আপনি একটি বিপদে পড়েছেন। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য তাদের পরামর্শ আর সাহায্য চান। এ কারণে তারা আপনার সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকবে।
* আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাহায্য করুন। এতে আপনার সন্তানের হয়রানি ও শাস্তি কম হবে। এমনকি তার জীবনও রক্ষা পেতে পারে।
* জীবনযাপনে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করুন। সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিন। অপরের বিরূপ আচরণ বা অবহেলাকে গুরুত্ব না দিয়ে আপনি নিজে সামাজিক হওয়ার চেষ্টা করুন।
* আবেগ, চিন্তা আর আচরণের পরিবর্তনগুলো নিজেরা মোকাবিলা করতে না পারলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
আশপাশের মানুষ যা করবেন
বিচারিক দায়িত্ব পালন করবেন না। অপরাধী বা অভিযুক্ত ব্যক্তির মা-বাবার প্রতি সমমর্মী হন, তাঁদের প্রতি প্রকাশ্যে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য করবেন না। নিজের আবেগ দিয়ে পরিচালিত না হয়ে, স্রোতে গা না ভাসিয়ে বিষয়টিকে যুক্তি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন।
প্রত্যেকে তাঁর অপরাধের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী। এটা বিশ্বাস করে অপরাধীর মা-বাবাকে দায়ী করবেন না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংবাদকর্মীরা অভিযুক্তের মা-বাবার জেরা বা সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় সংবেদনশীল হন। মনে রাখবেন এই মা-বাবা এই মুহূর্তে একটি খুব খারাপ সময় পার করছেন, তাঁরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাঁদের প্রতি মানবিক আচরণ করুন, এই মানবিক আচরণ প্রকৃত সত্য আর তথ্য উদ্ঘাটনে সহায়ক হবে।
স্বজন প্রতিবেশীরা ভয় পেয়ে দূরে সরে যাবেন না, এই ঘটনা যে কারও জীবনে যখন-তখন ঘটতে পারে। এটা ভেবে আপনার কাছের মানুষ, যিনি তাঁর সন্তানের অপরাধের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তার সাহায্যে এগিয়ে আসুন।
অভিযুক্ত সন্তানের মৃত্যু হলে পারলৌকিক আচার-অনুষ্ঠান পালনে মা-বাবাকে উদ্বুদ্ধ করুন। এ বিষয়ে সৎ পরামর্শ দিন।
সুত্র প্রথম আলো আহমেদ হেলাল | আপডেট: 
আহমেদ হেলাল : সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

শিশুকে বুঝিয়ে বলুন





তিন বছরের শিশু আরিয়া। আরিয়া শান্ত স্বভাবের। কিন্তু মাঝেমধ্যেই হুট করে তার জেদ চেপে যায়। বিশেষ করে, শপিং মলে গিয়ে পছন্দের কোনো খেলনা কিনে না দিলেই এই জেদ আরও চেপে যায়। সবার সামনেই কান্নাকাটি করে এক হুলুস্থুল কাণ্ড বাধিয়ে ফেলে। অগত্যা মেয়েকে শান্ত করার জন্য পছন্দের খেলনাটা কিনে দিতেই হয় মা-বাবাকে।
একই রকম অবস্থা পাঁচ বছরের রাফানের ক্ষেত্রেও। প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে রাফান। বন্ধুদের কাছে নিত্যনতুন জিনিস দেখে প্রতিদিনই বিভিন্ন বায়না করে সে। সেই বায়না পূরণ না করা মানেই আরেক হুলুস্থুল ব্যাপার। ঝামেলা এড়াতেই মা-বাবা পূরণ করে দেন প্রতিটি বায়না।
এ রকম সমস্যা শুধু আরিয়া কিংবা রাফানের মা-বাবার ক্ষেত্রেই হচ্ছে না। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অধিকাংশ শিশুর মা-বাবাই এই সমস্যাটির মধ্য দিয়ে যান। শিশুর হাসি মুখের কথা চিন্তা করেই তাঁরা পূরণ করে দেন প্রতিটি আবদার। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন কি যে এর ফলে আপনার শিশুটি একরোখা, জেদি হয়ে যাচ্ছে নাকি? কিংবা বড় হলেও এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব আপনার সন্তানটির মধ্যে পড়বে কি না?

শিশুরা কেন জেদ করে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের কাউন্সেলর মরিয়ম সুলতানা মনে করেন, জেদ কিংবা অতিরিক্ত রাগ শিশুদের একধরনের সহজাত বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মতো শিশুদেরও বিভিন্ন আবেগ রয়েছে। আর নাজুক মনের ছোট এই মানুষেরা নিজেদের আবেগকে সামলিয়ে উঠতে পারে না। এটাই স্বাভাবিক। আর তাই তাদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্বটা কিন্তু পরিবারের।

সব শিশুর প্রকৃতি একই রকম নয়। প্রতিটি মানব শিশুই যার যার মতো আলাদা। সাধারণভাবে তিন ধরনের মানসিকতার শিশু দেখা যায়। ‘একরোখা শিশু’, ‘একরোখা ও শান্ত মিশেলের শিশু’ এবং ‘শান্ত ধরনের শিশু’। ১০-১৫ শতাংশ শিশু একরোখা কিংবা ডিফিকাল্ট চাইল্ড ধরনের হয়ে থাকে। আর এ ধরনের শিশুদের জেদ থাকে বড্ড বেশি।
তাই এই খুদে নাজুক মানুষগুলোর জন্যও চাই ঠিকমতো পরিচর্যা। শুধু আবদার পূরণ করা মানেই সঠিক উপায়ে শিশুকে পরিচর্যা করা নয়। কখনো মা-বাবাকে হতে হবে স্নেহশীল আবার কখনো তাঁদের হতে হবে কঠোর। তাই বলে কি শিশুকে শাসনে রাখতে হবে? মোটেই তা নয়। বরং মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এমন শাসনের ফলে শিশুর জেদ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাহলে কী করা যেতে পারে?
শিশুর জন্য সঠিক মানসিক পরিচর্যা
* অতিরিক্ত শাসন কিংবা অতিরিক্ত প্রশ্রয় কোনোটাই ঠিক নয়। পরিবর্তে শিশুকে বুঝিয়ে বলুন। তাকে বোঝাতে পারেন যে সে এখন বড় হচ্ছে এবং এমন আচরণ তার জন্য শোভনীয় নয়। এবং মা-বাবার সামর্থ্যের বাইরে সবকিছু দেওয়া সম্ভব নয়, এটা এখন থেকেই বোঝানো উচিত। এর ফলে বড় হয়ে শিশুর মধ্যে একধরনের দায়িত্বশীলতা তৈরি হবে।
* একরোখা শিশুদের সামলানো একটু কষ্টসাধ্যই বটে। এই ধরনের শিশুদের ক্ষেত্রে কিছু জিনিস উপেক্ষা করে যাওয়াই ভালো। যেমন, শিশু যদি কোনো কথা না শুনে তাহলে তাকে সময় দিন। বারবার একই কথা বললে উল্টো তার মধ্যে সেই কাজটি করার প্রবণতাই বেড়ে যাবে। তাই বারবার একই নির্দেশ না দিয়ে কিছু আচরণ উপেক্ষা করুন।
* শিশুর ভালো কাজের জন্য তার প্রশংসা করুন। শিশু যদি আপনার কথামতো কাজটি করে থাকে তাহলে তাকে অবশ্যই বলুন যে এমন কাজটির জন্য আপনি কতটা খুশি।
* ছোট বয়স থেকেই শিশুকে আদবকায়দা এবং বিভিন্ন নৈতিকতা শিক্ষা দিন। শুধু পড়াশোনার প্রতি নজর রাখার মানেই এই নয় যে শিশুর সব দিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাকে অন্যান্য বিষয়েও শিক্ষা দিন।
* শিশুকে তার সমবয়সী বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে দিন। এর ফলে শিশুর সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া ঠিকমতো গড়ে ওঠে।
* শিশু যা বলে সেগুলো মন দিয়ে শুনুন। তাকে কোনোমতেই অবহেলা করবেন না। শিশুরা খুব সংবেদনশীল হয়ে থাকে, আপনার এমন আচরণে তার মনঃক্ষুণ্ন হতে পারে। কথায় কথায় শিশুর আগ্রহ, পড়াশোনা বিষয়ে জেনে নিন। আপনিও আপনার কিছু বিষয় তার সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। যেমন, আপনার নিজের শৈশবের কোনো ঘটনা। কিংবা হতে পারে বাল্যকালের কোনো বন্ধুর কথা। এর ফলে শিশুর যোগাযোগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং আপনাদের মাঝে ভালো সম্পর্কও বজায় থাকবে।
* শিশুর শিক্ষক কিংবা মেন্টরের সঙ্গে মাসে একবার হলেও কথা বলুন। এর ফলে আপনার শিশুর সম্পর্কে আপনি জেনে নিতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী তার পরিচর্যাও নিতে পারবেন।
এবার তাহলে শিশুকে নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকুন!
সুত্র প্রথম আলো নাদিয়া নাহরিন | আপডেট: 

Saturday, July 30, 2016

করোনা ভাইরাস ,COVID-19 , সন্তানদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের কী করা উচিত ?

 সন্তানদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের কী করা উচিত

         করোনা ভাইরাস  COVID-19

নভেলকরোনা ভাইরাস  কোভিড-১৯ হলো একটি নতুন ভাইরাস যা অতীতের সার্স ভাইরাস এবং কয়েক ধরনের সাধারণ সর্দি-জ্বর জাতীয় ভাইরাসের পরিবারভুক্ত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড ১৯-কে  মহামারী  হিসাবে উল্লেখ করেছে। এই ভাইরাসের ভয়াবহতা বেড়েছে বলে মূলত এর ভৌগলিক বিস্তারের স্বীকৃতিস্বরূপ একে মহামারী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

যেহেতু কোভিড-১৯ ভাইরাসটি যে কোন দেশে এবং যে কোন সম্প্রদায়ের শিশু ও পরিবারের মধ্যে বিস্তার লাভ করে । পরিবার ও শিশুদের এই ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন দেশের সরকার ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর সাথে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।

কোভিড-১৯সহ করোনাভাইরাস কিভাবে ছড়ায়, এর থেকে নিজেকে কিভাবে সুরক্ষিত রাখতে হয় এবং এই ভাইরাস সংক্রামণ হলে কি কি করনীয় ইত্যাদি বিষয়ে বিষয়ে সতর্কতা খুবই জরুরী এবং এই বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জেনে নেয়া উচিৎ।

কোভিড-১৯ ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?

সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি এবং হাঁচির মাধ্যমে এবং ভাইরাস দ্বারা হাতের মাধ্যমে চখ,নাক,মুখ স্পর্শের মাধ্যমে এটি সংক্রমিত হয়। করোনা ভাইরাস বেশ কয়েক ঘন্টা ভূপৃষ্ঠে বেঁচে থাকতে পারে, তবে সাধারণ জীবাণুনাশক এটিকে মেরে ফেলতে সক্ষম।

করোনাভাইরাসের লক্ষণগুলো কী?

করোনভাইরাসের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট। আরও মারাত্মক ক্ষেত্রে, এই সংক্রমণের ফলে নিউমোনিয়া বা শ্বাস-প্রশ্বাসের অসুবিধা হতে পারে। তবে, খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ প্রাণঘাতী হয়।

এসব লক্ষণগুলো ফ্লু (ইনফ্লুয়েঞ্জা) বা সাধারণ ঠান্ডা-জ্বর, যা কোভিড-১৯ এর চেয়ে অনেক বেশি সাধারণ। এ কারণেই কোনও ব্যক্তি কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখে নেয়া দরকার। এটি মনে রাখা প্রয়োজন যে, মূল প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো একই রকম। এর মধ্যে রয়েছে বার বার হাত ধোয়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। যেমন, কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় কনুই দিয়ে ঢেকে নেয়া বা টিস্যু ব্যবহার করা, তারপর টিস্যুটি নিকটবর্তী বন্ধ ময়লার বাক্সে ফেলে দেয়া। এছাড়াও, জ্বরের জন্য একটি টিকা রয়েছে। তাই, নিজেকে এবং নিজের সন্তানকে সময়মতো ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা মনে রাখবেন।

সংক্রমণের ঝুঁকি আমি কীভাবে এড়াতে পারি?

সংক্রমণ এড়াতে আপনি এবং আপনার পরিবার নিচের চার ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন:
১। ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে বা অ্যালকোহলযু্ক্ত হাত-ধোয়ার সামগ্রী ব্যবহার করে আপনার হাত ধূয়ে নিন ।    Click Video   

২। কাশি বা হাঁচি দেবার সময় মুখ এবং নাক কনুই দিয়ে বা টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখুন। ব্যবহূত টিস্যুটি তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিন ।
৩।ঠান্ডা লেগেছে বা জ্বরের লক্ষণ আছে এমন ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন
৪।আপনার বা আপনার সন্তানের জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিন ।



আপনার হাত ঘন ঘন ধুবেন। বিশেষ করে, খাবার আগে, নাক পরিস্কার করার পর, কাশি বা হাঁচি দেওয়ার পর এবং বাথরুমে যাওয়ার পরেও।

সাবান ও পানি যদি সহজে পাওয়া না যায়, সেক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ অ্যালকোহল রয়েছে এমন অ্যালকোহলভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। যদি হাতে ময়লা থাকে, তবে সব সময় সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।

আমার কি মেডিক্যাল মাস্ক পরা উচিত?

যদি আপনার শ্বাসকষ্টের লক্ষণ (কাশি বা হাঁচি) থাকে, তবে অন্যের সুরক্ষার জন্য একটি মেডিকেল মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদি আপনার কোন লক্ষণ না থাকে, তবে মাস্ক পরার কোন প্রয়োজন নেই।

যদি মাস্ক পরা হয় তবে ভাইরাস সংক্রমণের বাড়তি ঝুঁকি এড়াতে অবশ্যই এর যথাযথ ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যবহারের পর এগুলো যথাযথভাবে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিতে হবে।

তবে শুধুমাত্র মাস্কের ব্যবহার এই ভাইরাসের সংক্রমন রোধ করার জন্য যথেষ্ট নয়। এর সাথে অবশ্যই ঘন ঘন হাত ধোয়া, হাঁচি ও কাশি ঢেকে রাখা, এবং ঠান্ডা লাগা বা ফ্লু-এর মতো লক্ষণ রয়েছে (কাশি, হাঁচি, জ্বর) এমন ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিত।

কোভিড-১৯ কি শিশুদের প্রভাবিত করে?

এটি একটি নতুন ধরনের ভাইরাস এবং ভাইরাসটি শিশু বা গর্ভবতী মায়েদের কীভাবে প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে আমরা খুব বেশি কিছু জানি না। আমরা শুধু এটুকু জানি যে, যে কোন বয়সের মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত শিশুদের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে খুব কম ঘটেছে। এখন পর্যন্ত বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তি ছাড়া খুব কম ক্ষেত্রেই এই ভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

যদি আমার সন্তানের কোভিড-১৯ এর লক্ষণ দেখা দেয় সেক্ষেত্রে কি করা উচিত?

যদি আপনার শিশুর কোভিড-১৯ এর লক্ষণ দেখা দেয় তখন আপনি অবশ্যই চিকিৎসা সেবা নিবেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, উত্তর গোলার্ধ্বে এখন জ্বরের মৌসুম, এবং কোভিড-১৯ এর লক্ষণ যেমন, কাশি বা জ্বর, ফ্লুর মত একই রকমের হতে পারে বা সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরের বিষয়টিও খুবই স্বাভাবিক।

ভালভাবে হাত ধোয়া এবং শ্বাসতন্ত্রজনিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দরকার। যেসব ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া রোগ সৃষ্টি করে, দৈনন্দিন হাত ধোয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সন্তানকে ভ্যাকসিন দেওয়ার মাধ্যমে সেগুলো থেকে তাদেরকে রক্ষা করতে পারবেন।

আপনার বা আপনার সন্তানের যদি ফ্লুর মতো শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত অন্যান্য সংক্রমন থাকে, তবে দ্রুত স্বাস্থ্য সেবা নিন। এছাড়াও, অন্যদের মধ্যে এই সংক্রমন ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য জনসমাগমস্থলে কমক্ষেত্র, বিদ্যালয়, গণপরিবহন যাওয়া যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

পরিবারের কোনও সদস্যের এই লক্ষণ দেখা দিলে কী করা উচিত?

আপনার বা আপনার সন্তানের যদি জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকে তবে অবশ্যই চিকিৎসা সেবা নিতে হবে। কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছে এমন কোনও এলাকা যদি আপনি ভ্রমণ করে থাকেন, বা কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছে এমন কোনও এলাকা ভ্রমণ করেছে ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতার লক্ষণ রয়েছে এমন কারও সাথে যদি আপনার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ হয়, তবে আগে থেকেই স্বাস্থ্য সেবাদানকারীর সাথে কথা বলুন।



 সকল পিতামাতার নিজের এবং তাদের সন্তানদের জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা উচিত: ঘন ঘন হাত ধোয়া, বা কমপক্ষে ৬০ শতাংশ অ্যালকোহল রয়েছে এমন স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, শ্বাসতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা (কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় কনুই দিয়ে ঢাকা বা টিস্যু ব্যবহার করা ও তারপর ব্যবহূত টিস্যুকে বিনে ফেলে দেওয়া) এবং কাশি বা হাঁচি দিচ্ছে এমন কারো সংস্পর্শে না যাওয়া। এছাড়াও, সকল পিতামাতার উচিত সব সময় একটি হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ডিসপোজেবল টিস্যু পেপারের প্যাকেট এবং জীবাণুনাশক ন্যাকড়া বহন করা।




করোনা ভাইরাস নিয়ে আপনি উদ্বিগ্ন হলে তা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু ভীতি ও সামাজিক কলঙ্ক একটি খারাপ অবস্থাকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যায়। আক্রান্তরা মানসিক, এমনকি শারীরিক ভাবেও নিগৃহীত হচ্ছে। জরুরী জনস্বাস্থ্যে অবস্থা আক্রান্ত সকলের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থাকা এবং একে অপরের প্রতি সদয় এবং সহায়ক হওয়া এক্ষেত্রে জরুরী। আপনার সন্তান, পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে করোনভাইরাস সম্পর্কে কি করা যাবে এবং কি করা যাবে না সে বিষয়ে পরামর্শ দিন ।
সরকারের সকল নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে ।

এডমিন
www.kidszonebd.blogspot.com